মহররমের শোকপর্ব শেষে হবে রাষ্ট্রীয় আয়োজন, মুসলিম বিশ্বে গভীর শোক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক-প্রান্তিক।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররমের প্রথম দশক শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তাকে স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কমিটি জানায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দেশ-বিদেশের লাখো মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক সমন্বয় চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু আয়াতুল্লাহ খামেনিই নন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকদের স্মরণেও পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে জানাজা, দাফন ও শোকানুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
কমিটি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন তথ্য ও গুঞ্জনের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে অনির্ভরযোগ্য তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহররমের প্রথম দশক বিশেষত আশুরার শোকপর্ব মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকানুষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সে কারণেই আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইরান ধর্মীয় আবেগ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নিরাপত্তাজনিত বিবেচনাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে। হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। একই ঘটনায় কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং দ্রুত নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শোকের আবহ বিরাজ করছে। দেশটির বিভিন্ন মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চল, বিশেষ করে ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনেও শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামোর জন্যও এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
এখন মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর তেহরানের দিকে—রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠানে কত বড় জনসমাগম হয়, নতুন নেতৃত্ব কী বার্তা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক-প্রান্তিক। 



















