Dhaka ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রান্তিক।

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার পুলিশ বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এ সময় বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীও তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

চলতি বছরের ২০ মে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার। বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে তিনি মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে মোশাররফ হোসেন বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ৭৫ লাখ টাকার একটি চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২২ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট বিদিশার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালতে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। পরে ২০ মে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এ দম্পতির এক ছেলে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯০ দশকের নস্টালজিয়া বনাম জলবায়ু সংকট: এআই ছবির আড়ালে পুড়ছে পৃথিবী

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা

Update Time : ১২:১২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক প্রান্তিক।

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার পুলিশ বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এ সময় বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীও তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

চলতি বছরের ২০ মে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার। বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে তিনি মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে মোশাররফ হোসেন বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ৭৫ লাখ টাকার একটি চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২২ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট বিদিশার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালতে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। পরে ২০ মে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এ দম্পতির এক ছেলে রয়েছে।