নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামায়াতে ইসলামীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জসীম উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। হামলায় আহত জসীম উদ্দিনকে পরে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত জসীম উদ্দিন কায়েমপুর মাদবর বাড়ির আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির/সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জসীম উদ্দিনের অভিযোগ, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহাদাৎ সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে শাহাদাৎ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে অনুসরণ করছিলেন।
জসীম উদ্দিন বলেন, রাতে নামাজ শেষে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে শাহাদাৎ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় শাহাদাৎ তাঁকে বিভিন্ন মামলায় তাঁর নাম দেওয়ার অভিযোগ করেন এবং ‘এখন হিসাব নে’ বলে মারধর শুরু করেন।
জসীমের দাবি, একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ডিসেম্বরে আপা আইতাছে, তার আগেই তোরে মাইরা ফেলমু।’ এরপর সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
হামলার পর আশপাশের লোকজন জসীম উদ্দিনকে উদ্ধার করে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রক্তক্ষরণ দেখে তাঁর স্ত্রী তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একই এলাকায় আবারও হামলা ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্য একটি প্রতিবেদনে জসীমের অভিযোগের বরাতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আল আমিন ও জামায়াতের স্থানীয় আমির আবদুল জব্বারের সহায়তার অভিযোগও তোলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহম্মদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক। 













