Dhaka ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে: জামায়াত আমির

জহিরুল ইসলাম , উপসম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক।

কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ লংমার্চটি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেট বিভাগ হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না, কুমিল্লা বিভাগ দিয়ে দেন। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লাবাসী বিভাগের দাবি করে আসছে। তাই কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, কুমিল্লাবাসী দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি ঠিকমতো গ্যাস পান, বিদ্যুৎ পান, পানি পান? চাঁদাবাজি ছাড়া কি ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় কি দুর্নীতি আছে? আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান?’

ছয় দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘সমাধানের জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনারা কি সমাধান চান?’ তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সব দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।

কুমিল্লার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কুমিল্লার প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব দেখানো হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো জেলা বা অঞ্চলের একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় সেই এলাকার সব মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়। কোনো অঞ্চলকে অবহেলা বা অপমান করা হলে সেখানকার মানুষের মনে কষ্ট সৃষ্টি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের দিকে যথাযথ নজর দিতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনার নিজের মন্ত্রণালয়ের তো কোনো খবর নেই, আমরা আর কী বলব!’

মাদকের বিস্তার নিয়েও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে সংসদে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেল-সংলগ্ন মাঠে দুপুর ১২টায় বড় পথসভার আয়োজন করা হয়।

লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

কুমিল্লার পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলশীর আটতলা ভবনে পুলিশের অভিযান: ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস

কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে: জামায়াত আমির

Update Time : ০৮:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জহিরুল ইসলাম , উপসম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক।

কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ লংমার্চটি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেট বিভাগ হওয়ার পর ১৯৯৪ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর টালবাহানা করবেন না, কুমিল্লা বিভাগ দিয়ে দেন। ১৯৯৪ সাল থেকে কুমিল্লাবাসী বিভাগের দাবি করে আসছে। তাই কুমিল্লা নামেই দ্রুত বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, কুমিল্লাবাসী দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি ঠিকমতো গ্যাস পান, বিদ্যুৎ পান, পানি পান? চাঁদাবাজি ছাড়া কি ব্যবসা করতে পারেন? কুমিল্লায় কি দুর্নীতি আছে? আপনারা কি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চান?’

ছয় দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘সমাধানের জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনারা কি সমাধান চান?’ তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সব দাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।

কুমিল্লার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লায়—এ কারণে কুমিল্লার প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব দেখানো হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো জেলা বা অঞ্চলের একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় সেই এলাকার সব মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়। কোনো অঞ্চলকে অবহেলা বা অপমান করা হলে সেখানকার মানুষের মনে কষ্ট সৃষ্টি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের দিকে যথাযথ নজর দিতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনার নিজের মন্ত্রণালয়ের তো কোনো খবর নেই, আমরা আর কী বলব!’

মাদকের বিস্তার নিয়েও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে সংসদে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেল-সংলগ্ন মাঠে দুপুর ১২টায় বড় পথসভার আয়োজন করা হয়।

লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

কুমিল্লার পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।