Dhaka ০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনায় রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার, হুমকিতে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য

  • মোঃ রওশন আলী
  • Update Time : ০৬:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭০ Time View

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র গভীর রাতে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে ব্যাটারির সাহায্যে পানিতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। এতে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণী ও নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মোহনগঞ্জ, মালদহপাড়া, পেচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, মাছখালী, লেওলাইপাড়া, বক্তারপুর ও কাজিরহাট এলাকার কাছাকাছি যমুনার বিভিন্ন অংশে রাতের বেলায় এ ধরনের মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। দিনের বেলায় বিষয়টি তেমন চোখে না পড়লেও রাত গভীর হলে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে গোপনে এ কার্যক্রম চালানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রয়োগের পর পানির আশপাশের মাছ কিছু সময়ের জন্য নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে জাল দিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হয়। এভাবে ছোট মাছ, রেণু পোনা ও বড় মাছ—সব ধরনের মাছই শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় জেলে জানান, এ পদ্ধতিতে অল্প সময়ে তুলনামূলক বেশি মাছ পাওয়া যায়। ফলে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও লাভের আশায় কিছু ব্যক্তি বারবার বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করছে।

সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, নদীতে এমনিতেই আগের তুলনায় মাছের পরিমাণ কমে এসেছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ছাড়াও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হলে নদীর স্বাভাবিক জলজ পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে গোপনে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা যমুনা নদীতে রাতের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকাররম হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যমুনার মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করবে এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলশীর আটতলা ভবনে পুলিশের অভিযান: ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস

যমুনায় রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার, হুমকিতে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য

Update Time : ০৬:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র গভীর রাতে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে ব্যাটারির সাহায্যে পানিতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। এতে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণী ও নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মোহনগঞ্জ, মালদহপাড়া, পেচাকোলা, নাকালিয়া, হরিরামপুর, মাছখালী, লেওলাইপাড়া, বক্তারপুর ও কাজিরহাট এলাকার কাছাকাছি যমুনার বিভিন্ন অংশে রাতের বেলায় এ ধরনের মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। দিনের বেলায় বিষয়টি তেমন চোখে না পড়লেও রাত গভীর হলে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে গোপনে এ কার্যক্রম চালানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রয়োগের পর পানির আশপাশের মাছ কিছু সময়ের জন্য নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে জাল দিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হয়। এভাবে ছোট মাছ, রেণু পোনা ও বড় মাছ—সব ধরনের মাছই শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় জেলে জানান, এ পদ্ধতিতে অল্প সময়ে তুলনামূলক বেশি মাছ পাওয়া যায়। ফলে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও লাভের আশায় কিছু ব্যক্তি বারবার বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করছে।

সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, নদীতে এমনিতেই আগের তুলনায় মাছের পরিমাণ কমে এসেছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মাছ ছাড়াও অন্যান্য জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হলে নদীর স্বাভাবিক জলজ পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে গোপনে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা যমুনা নদীতে রাতের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকাররম হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যমুনার মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করবে এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।