শ্রাবণের মেঘ ও রক্তাক্ত মে”
ইতিহাসের কিছু দিন আসে যা ক্যালেন্ডারের পাতাকে শুধু লাল কালিতে রঞ্জিত করে না, বরং একটি জাতির হৃদপিণ্ডে চিরস্থায়ী ক্ষত এঁকে দিয়ে যায়| ৩০ মে তেমনি একটি কালজয়ী, শোকাতুর দিন| ১৯৮১ সালের মে মাসের এই শেষপ্রান্তে এসে বাংলাদেশের আকাশ যেন মেঘে মেঘে ম্লান হয়ে উঠেছিল, আর সেই মেঘের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম, কালান্তক বুলেট| বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাহাদাত বার্ষিকী এই ৩০ মে |এই দিনটি কেবল একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণ দিবস নয়, এটি একটি দর্শনের সাময়িক থমকে যাওয়া, একটি উন্নয়নমুখী অভিযাত্রার ওপর নির্মম আঘাত |
সবুজ বাংলার বুক চিরে যে মানুষটি একদা হেঁটে বেড়িয়েছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া,রুপ্সা থেকে পাথুরিয়া; কৃষকের সাথে কোদাল হাতে নেমেছেন মাটির টানে, সেই মাটির বুকেই তাকে শেষ পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়তে হয়েছে চিরতরে| চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসের সেই নিস্তব্ধ ভোর আজো আমাদের মনে করিয়ে দেয় ক্ষমতার নিষ্ঠুরতা এবং এক মহানায়কের মহাপ্রয়াণকে|
শৈশব থেকে সামরিক জীবনের উন্মেষঃ
এক প্রদীপ্ত সূর্য১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি| বগুড়ার প্রত্যন্ত ও শান্ত জনপদ গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন জিয়াউর রহমান| পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন সরকারি রসায়নবিদ, যার কর্মস্থল ছিল কলকাতা শহরে| ফলে জিয়ার ˆশশবের একটি বড় অংশ কেটেছে শিক্ষা ও সস্কৃতির আলো- বাতাসে, কলকাতার হেয়ার স্কুলে| ভারত বিভাগের পর দেশভাগের সেই উত্তাল সময়ে তার পরিবার করাচিতে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখান থেকেই জিয়াউর রহমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়|ছোটবেলা থেকেই তার চরিত্রের মধ্যে এক অদ্ভুত শান্ত ভাব এবং প্রখর শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যেত| গভীর চোখ আর মিতভাষী স্বভাবের এই তরুণের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অদম্য দেশপ্রেমের স্ফুলিঙ্গ| ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন| ১৯৫৫ সালে কমিশন পাওয়ার পর সামরিক জীবনের কঠোর শৃঙ্খলার মাঝে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ, আপসহীন এবং দূরদর্শী কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলেন| ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে এক অনন্য রণকৌশল ও সাহসিকতা প্রদর্শন করে তিনি লাভ করেন উচ্চ প্রশংসিত সামরিক খেতাব| কিন্তু তার অন্তরের গভীর কোণে অবদমিত ছিল নিজ মাতৃভূমি পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি গভীর মমতা ও অধিকার সচেতনতা|
কালুরঘাটের সেই কণ্ঠ ও স্বাধীনতার অমর ইশতেহারঃ
১৯৭১ সালের মার্চ মাস| সমগ্র পূর্ব বাংলা তখন এক আগ্নেয়গিরি, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে প্রস্তুত| ২৫শে মার্চের কালরাতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে, তখন দিকভ্রান্ত জাতির সামনে ছিল এক চরম অনিশ্চয়তা| নেতা-নেত্রীরা যখন আত্মগোপনে কিংবা বন্দি, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে এক বজ্রকণ্ঠ|২৬শে এবং ২৭শে মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করেন| সেই ঘোষণা কেবল ইথারে ভেসে আসা কিছু শব্দ ছিল না, তা ছিল একটি জাতিকে অন্ধকারের গহ্বর থেকে আলোর পথে টেনে আনার এক জাদুকরী মন্ত্র| মেজরের সেই গম্ভীর, প্রত্যয়ী কণ্ঠ স্বর শুনে ঘরে ঘরে বাঙালি তরুণরা অস্ত্র তুলে নেওয়ার সাহস পেয়েছিল|তিনি শুধু ঘোষণাই দেননি, নিজে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েন| মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর এবং পরবর্তীতে তার নামে গঠিত ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে তিনি রণাঙ্গনে যে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন, তা বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে| স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এই মহান অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ রাষ্ট্র তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে, যা তার সাহসিকতার এক চিরন্তন স্মারক|
রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার উত্থান এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্মঃ
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ও তৎপরবর্তী রাজনৈতিক ঝড়ঝাপ্টা ও অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যখন এক চরম নেতৃত্বহীনতা ও বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি, ঠিক তখনই সিপাহী-জনতার এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভে¤^র জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন| দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তিনি শক্ত হাতে হাল ধরেন এক ক্ষতবিক্ষত নৌকার| ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন|রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েই তিনি অনুভব করেছিলেন, একটি জাতিকে দীর্ঘকাল একদলীয় কিংবা কঠোর শাসনের মধ্যে বন্দি রাখা যায় না| তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের শক্তিতে| আর তাই তিনি অবসান ঘটান একদলীয় বাকশালের এবং দেশে পুনর্জীবন দান করেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের| সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়| ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি)| এই দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেকনোক্র্যাট, আমলা, কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা| তিনি প্রবর্তন করেন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর এক নতুন দর্শন, যা বাঙালি, পাহাড়ী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ এই ভূখণ্ডের প্রতিটি নাগরিককে এক অভিন্ন পরিচয়ে ভূষিত করে|
১৯ দফা কর্মসূচি—মাটি ও মানুষের অর্থনীতিঃ
জিয়াউর রহমান শুধু ড্রয়িংরুমে বসে রাজনীতি করার মানুষ ছিলেন না| তার রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল দেশের কাদামাটি, নদী আর খেটে খাওয়া মানুষ| তিনি বিশ্বাস করতেন, ˆবদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করে কোনো জাতি আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে না| আর এই দর্শন থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তার বিখ্যাত ‘১৯ দফা কর্মসূচি’|এই কর্মসূচির মূল কথাই ছিল ¯নির্ভরতা | তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের চোখে দেখেছেন| তার উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘খাল খনন কর্মসূচি’ ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ| হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কোদাল হাতে নদী ও খাল খননে নেমে পড়েছিল, যাতে কৃষিজমিতে সেচের পানি পৌঁছানো যায় এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়|শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি শুরু করেন ‘গণশিক্ষা কার্যক্রম’| যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী করতে গঠন করেন যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়| মহিলাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন| তার এই আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ফলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চাল রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করতে শুরু করেছিল| তিনি দেখিয়েছিলেন, সততা এবং শ্রম দিয়ে কীভাবে একটি অনুন্নত দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে আনা যায় |
দূরদর্শী কূটনীতি এবং সার্ক-এর স্বপ্নদ্রষ্টাঃ
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন| ¯স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যখন মুসলিম বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ছিল, তখন জিয়াউর রহমান তার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে সেই দেশগুলোর সাথে সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন| ওআইসি (OIC) বা ইসলামিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী করেন|তার কূটনৈতিক সফলতার সবচেয়ে বড় স্মারক হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তথা ‘সার্ক’ গঠনের প্রস্তাবনা| তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধন ছাড়া এই অঞ্চলের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়| যদিও তার জীবদ্দশায় সার্কের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে যায়নি, তবে তার রোপণ করা সেই কূটনৈতিক বীজই পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে সার্কের জন্ম দেয়, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাকে একজন দূরদর্শী বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে|
সেই অভিশপ্ত মে মাস ও চট্টগ্রামের কালরাতঃ
১৯৮১ সালের মে মাস| বাতাসে তখন গ্রীষ্মের তাপদাহ আর বর্ষার আগাম বারতা| দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন মোটের ওপর স্থিতিশীল হলেও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কিছু অংশে চাপা অসন্তোষ আর ষড়যন্ত্রের মেঘ দানা বাঁধছিল| চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে ˆতরি হওয়া একটি ভুল বোঝাবুঝি ও বিরোধ মেটাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেই সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন| অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে চট্টগ্রামে যেতে বারণ করেছিলেন, কিন্তু জনগণের রাষ্ট্রপতি কখনো নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবেননি| ২৯ মে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান এবং সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটি সার্কিট হাউসের একটি সাধারণ কক্ষে অবস্থান নেন | ৩০ মে ভোররাতে যখন সার্কিট হাউসের চারপাশ নিঝুম অন্ধকারে ঢাকা, ঠিক তখনই প্রকৃতির সেই স্তব্ধতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধেয়ে আসে একদল বিপথগামী, পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তার বুলেটের শব্দ ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারীরা সার্কিট হাউস অবরুদ্ধ করে ফেলে|গুলির শব্দ শুনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিন্দুমাত্র ভীত না হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন| তিনি হামলাকারীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গর্জে উঠে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমরা কী চাও?’| কিন্তু ঘাতকদের বুকে তখন কোনো দেশপ্রেম ছিল না, ছিল না কোনো নীতি| কোনো কথা না শুনে তারা ব্রাশফায়ার করে এই মহান নেতাকে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর একদল কুচক্রী সদস্যের গুলিতে নিথর হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থপতি ।সার্কিট হাউসের সেই বারান্দা ভেসে যায় এক বীর উত্তমের রক্তে |
শোকাতুর বাংলাদেশ ও জনসমুদ্রের অশ্রু
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর খবর যখন বেতার ও টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সমগ্র বাংলাদেশ যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল| মানুষের চোখের জল বাঁধ মানেনি| ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, প্রতিটি ঘরে ঘরে নেমে এসেছিল অমাবস্যার অন্ধকার| সাধারণ মানুষ বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে তাদের প্রিয় ‘জিয়া ভাই’ আর নেই |তার মরদেহ যখন ঢাকায় আনা হয় এবং শেরেবাংলা নগরে জানাজার জন্য রাখা হয়, তখন সৃষ্টি হয়েছিল ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য| ঢাকা পরিণত হয়েছিল এক জনসমুদ্রে| লাখ লাখ মানুষ, যাদের মুখে কোনো স্লোগান ছিল না, ছিল কেবল বুকফাটা আর্তি আর চোখভরা জল| পঙ্গু, শিশু, বৃদ্ধ, নারী নির্বিশেষে সবাই এসেছিলেন তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে| ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই জানাজা প্রমাণ করেছিল যে, বুলেট দিয়ে একজন মানুষের দেহকে বিনাশ করা গেলেও মানুষের হৃদয় থেকে তার স্থান মুছে ফেলা যায় না|
মহাকালের দর্পণে অমর জিয়াঃ
আজ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র ফুরিয়ে যায়নি| বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এবং ¯^নির্ভরতার প্রতিটি পদক্ষেপে তার দর্শন আজো পথপ্রদর্শক| তিনি ছিলেন একজন সৎ, কর্মঠ এবং দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের মূর্ত প্রতীক| দুর্নীতি ও ক্ষমতার মোহ যাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি| ৩০ মে তাই কেবল একটি শোকের দিন নয়, এটি আমাদের জাতীয় সংকল্পের দিন| শহীদ জিয়ার আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়ে দেয় কীভাবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে নিজের দেশকে ভালোবেসে মাটির সাথে মিশে যেতে হয়| মহাকালের দর্পণে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা বাংলাদেশের আকাশে চিরকাল আলো দিয়ে যাবে| রক্তাক্ষরে লেখা তার সেই নাম ও আদর্শ কোনো দিন মুছে যাওয়ার নয়|
মোঃ আলফাজ উদ্দিন-সম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক। 
















