Dhaka ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালে ইউপি  নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিক্ষুক!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১
  • ১৩১ Time View

এক হাতে আঠার বালতি আরেক হাতে পোষ্টার নিয়ে নিজের এলাকার বিভিন্ন স্থানে একাই নিজের পোস্টার সাঁটাচ্ছেন হতদরিদ্র ভিক্ষুক আবুল মুনসুর ফকির। আবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া, মহল্লা, বাড়ি, হাটে বাজারে একাই ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। মুখে সদা হাসি। ষাটোর্ধ এই লোকটি ত্রিশাল উপজেলার  ২ নং বৈলর ইউনিয়নের সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। উনার প্রতিক চশমা। টাকা নেই তাই নিজের সন্তান- আত্মীয়স্বজনরা পাশে থাকছেন না প্রচারণায়। তবে গতকাল তার এক ব্যবসায়ী সর্মথক ১২টি প্রাইভেট কার  ও মাইক্রোবাস দিয়ে ভিক্ষুক আবুল মুনসুরের পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারগুলোতে বক্তব্য দেন আবুল মুনসুর ফকির। বেড়েছে কৌতুহল, অনেকেই ভোট দেওয়ার জন্যে বিবেচনায় আনছেন। এ নিয়ে বৈলর ইউনিয়ন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার ২নং বৈলর ইউনিয়নের বড় পুকুর পাড়ের বাসিন্দা আবুল মুনসুর ফকির। প্রায় ৭০ বছর বয়সি আবুল মুনসুর রাস্তার পাশে কাগজে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। এলাকার মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত করেন। নামাজের সময় হলে ছুটে চলেন মসজিদে।

ভিক্ষুক চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্পকে জানতে চাইলে বৈলর ইউপিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে বাসিন্দ মাহাবুব আলম জানান, আবুল মুনসুর ফকির এক যুগের বেশি সময় ধরে এই কাগজে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। এলাকার লোকজন তাকে বিভিন্ন সময় সাহায্য করে। সে এই বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে। নিজেই নিজের প্রচারণা চালায়, এই খরবটা আমি আমার এক আত্মীকে জানালে তিনি ভিডিও কলে তাকে দেখতে চান। ভিডিও কলে মুনসুর ফকিরের সাথে কথা বলার পর আমার আত্মীয় তার প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ ১২টি গাড়ী পাঠিয়ে আবুল মুনসুর ফকিরের চশমা প্রতিকে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এতে এলাকায় মুনসুর ফকিরের ভোটও বেড়ে গেছে। অনেকেই বলছে নিজের খাইয়া মুনসুর ফকিরকে ভোট দিবে।

ভিক্ষুক আবুল মুনসুরের পক্ষে প্রচারণা চালানো সেই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন আমার পরিচয় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আমি আবুল মুনসুর ফকিরের একজন সর্মথক। বর্তমান সমাজ সংস্করণে তিনি ইচ্ছা পোষন করেছেন এবং আজীবন তিনি মানুষের সেবা করতে চান- এই ব্যাপারটাই আমার কাছে ভালো লেগেছে তাই আমি তার প্রচারণায় গাড়ী পাঠিয়েছি।

হতদরিদ্র মানুষ হয়েও কেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে প্রশ্নের জবাবে আবুল মুনসুর ফকির বলেন, “ মানুষের কাছ থেকে সাহায্যের টাকা জমিয়ে মনোনয়ন কিনছি, পোষ্টার করছি কারণ একটাই চেয়ারম্যানরা গরিব মানুষরে মানুষ মনে করে না, সুযোগ পাইলেই গরিব মাইষের সব সুযোগ সুবিধা কাইড়া খায়। গরিব মাইষেরে সেবা দিবার লাইগা আমি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হইছি। আমি চেয়ারম্যান ওইলে মরোনের আগ পর্যন্ত আমি মাইষের সেবা কইরা যাইয়াম।”

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঢাবি এলাকায় তিন ককটেল বিস্ফোরণ- বিক্ষোভ ছাত্রদলের

ত্রিশালে ইউপি  নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিক্ষুক!

Update Time : ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১

এক হাতে আঠার বালতি আরেক হাতে পোষ্টার নিয়ে নিজের এলাকার বিভিন্ন স্থানে একাই নিজের পোস্টার সাঁটাচ্ছেন হতদরিদ্র ভিক্ষুক আবুল মুনসুর ফকির। আবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া, মহল্লা, বাড়ি, হাটে বাজারে একাই ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। মুখে সদা হাসি। ষাটোর্ধ এই লোকটি ত্রিশাল উপজেলার  ২ নং বৈলর ইউনিয়নের সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। উনার প্রতিক চশমা। টাকা নেই তাই নিজের সন্তান- আত্মীয়স্বজনরা পাশে থাকছেন না প্রচারণায়। তবে গতকাল তার এক ব্যবসায়ী সর্মথক ১২টি প্রাইভেট কার  ও মাইক্রোবাস দিয়ে ভিক্ষুক আবুল মুনসুরের পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারগুলোতে বক্তব্য দেন আবুল মুনসুর ফকির। বেড়েছে কৌতুহল, অনেকেই ভোট দেওয়ার জন্যে বিবেচনায় আনছেন। এ নিয়ে বৈলর ইউনিয়ন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার ২নং বৈলর ইউনিয়নের বড় পুকুর পাড়ের বাসিন্দা আবুল মুনসুর ফকির। প্রায় ৭০ বছর বয়সি আবুল মুনসুর রাস্তার পাশে কাগজে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। এলাকার মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত করেন। নামাজের সময় হলে ছুটে চলেন মসজিদে।

ভিক্ষুক চেয়ারম্যান প্রার্থী সমর্পকে জানতে চাইলে বৈলর ইউপিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে বাসিন্দ মাহাবুব আলম জানান, আবুল মুনসুর ফকির এক যুগের বেশি সময় ধরে এই কাগজে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। এলাকার লোকজন তাকে বিভিন্ন সময় সাহায্য করে। সে এই বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে। নিজেই নিজের প্রচারণা চালায়, এই খরবটা আমি আমার এক আত্মীকে জানালে তিনি ভিডিও কলে তাকে দেখতে চান। ভিডিও কলে মুনসুর ফকিরের সাথে কথা বলার পর আমার আত্মীয় তার প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ ১২টি গাড়ী পাঠিয়ে আবুল মুনসুর ফকিরের চশমা প্রতিকে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এতে এলাকায় মুনসুর ফকিরের ভোটও বেড়ে গেছে। অনেকেই বলছে নিজের খাইয়া মুনসুর ফকিরকে ভোট দিবে।

ভিক্ষুক আবুল মুনসুরের পক্ষে প্রচারণা চালানো সেই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন আমার পরিচয় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আমি আবুল মুনসুর ফকিরের একজন সর্মথক। বর্তমান সমাজ সংস্করণে তিনি ইচ্ছা পোষন করেছেন এবং আজীবন তিনি মানুষের সেবা করতে চান- এই ব্যাপারটাই আমার কাছে ভালো লেগেছে তাই আমি তার প্রচারণায় গাড়ী পাঠিয়েছি।

হতদরিদ্র মানুষ হয়েও কেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে প্রশ্নের জবাবে আবুল মুনসুর ফকির বলেন, “ মানুষের কাছ থেকে সাহায্যের টাকা জমিয়ে মনোনয়ন কিনছি, পোষ্টার করছি কারণ একটাই চেয়ারম্যানরা গরিব মানুষরে মানুষ মনে করে না, সুযোগ পাইলেই গরিব মাইষের সব সুযোগ সুবিধা কাইড়া খায়। গরিব মাইষেরে সেবা দিবার লাইগা আমি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হইছি। আমি চেয়ারম্যান ওইলে মরোনের আগ পর্যন্ত আমি মাইষের সেবা কইরা যাইয়াম।”