জহিরুল ইসলাম -উপসম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক।
বাঙালির রাজনৈতিক আকাশে যখনই কোনো মেঘ জমে, তখনই এই মাটি থেকেই জন্ম নেয় এক নতুন সম্ভাবনার সূর্য। আজ বঙ্গভবনের সেই ঐতিহাসিক দরবার হলে এক পরম শুভ মুহূর্তের সাক্ষী হলাম আমরা। নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন অত্যন্ত দৃঢ় ও গম্ভীর কণ্ঠে মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল—আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণ শুধুমাত্র কোনো আনুষ্ঠানিকতার চাদর মোড়ানো সভা নয়, এ যেন এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দীপ্ত অঙ্গীকার।
মির্জা ফখরুল সাহেব আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের আসনে বসেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, প্রজ্ঞা আর সংযম এদেশের মানুষকে বরাবরই আশাবাদী করেছে। আর রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েই তিনি তাঁর পূর্বের বিশাল কর্মক্ষেত্র—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চাবিটি তুলে দিলেন ড. আবদুল মঈন খানের মতো এক সৎ ও সজ্জন ব্যক্তিত্বের হাতে। মঈন খানের মতো একজন সুশিক্ষিত ও মৃদুভাষী মানুষ যখন প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন, তখন দেশের আমজনতার মনে ভরসা জাগে। ক্ষমতার এই হস্তান্তর কোনো জমিদারি বদল নয়, এ যেন এক যোগ্য উত্তরসূরির হাতে পবিত্র আমানত সঁপে দেওয়া।
আজকের এই গোধূলিলগ্নে আরেক আশার আলো -তরুণদের নয়নমণি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মেধা, আধুনিক মনন আর বাগ্মিতার যে অনল তিনি বুকে ধারণ করেন, আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ‘তথ্য ও সম্প্রচার’ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে একজন গতিশীল ও তরুণ নেতার হাত ধরে রাষ্ট্রের প্রচারযন্ত্র নাগরিক অধিকারের সপক্ষে এবং সত্যের আলো ছড়াতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে—এ বিশ্বাস আজ অবান্তর নয়। তরুণদের এই দেশে তরুণেরাই হাল ধরবে, আজ বঙ্গভবন সেই সত্যেরই জয়গান গাইল।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্ত সবুজ পাহাড়ের প্রতিনিধি সাচিং প্রু জেরি যখন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন, তখন বুকটা এক অজানা গৌরবে ভরে ওঠে। রাষ্ট্র যখন প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে আপন করে বুকের কাছে টেনে নেয়, তখনই প্রকৃত অর্থ সাম্য আর সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। আর রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাহেব, যিনি এতদিন নিরলসভাবে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁর সেই কর্মদক্ষতার যোগ্য মূল্যায়ন করে আজ তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হলো।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ আসলে কোনো ক্ষমতার পাশাখেলা নয়; এটি হলো যোগ্যতম মানুষদের এক ছাতার নিচে এনে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করার এক দূরদর্শী প্রয়াস। বঙ্গভবনের এই উজ্জ্বল আলোর নিচে দাঁড়িয়ে নিশ্চয়ই বলতেই হয়—হে বাংলার নতুন সারথিরা, আপনাদের যাত্রা শুভ হোক। জনগণের যে বিশ্বাসের মর্যাদা নিয়ে আজ আপনারা শপথ নিলে, সেই সততা আর দেশপ্রেমের আলো দিয়ে এই জনপদের প্রতিটি মানুষের ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি পৌঁছে দেয়া আপনাদের পরম দায়িত্ব। ইতিহাস আপনাদের এই শুভ সূচনাকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
জহিরুল ইসলাম -উপসম্পাদক,দৈনিক প্রান্তিক। 














