প্রান্তিক প্রতিবেদক, ঢাকা
পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে আসিফ আলি জারদারিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তাঁকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে।
তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সেগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উঠে আসে। সরাসরি ও কার্যকর বিমান যোগাযোগ বাড়ানো গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগও আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন ও সফরের আমন্ত্রণের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের এবারের সাক্ষাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বাস্তবমুখী ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেন্দ্রিক করার প্রত্যাশাই প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রান্তিক প্রতিবেদক, ঢাকা 


















