Dhaka ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনস যাতায়াত শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১
  • ২৭৪ Time View

শুরু হল দেশের প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনসের মধ্যকার যাতায়াত। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে গতকাল সকাল ৭.৩০ টায় যাত্রা শুরু করে দুপুর ০১ টায় সেন্টমার্টিনস পৌঁছায় জাহাজটি। ওখানে ২.৩০ ঘন্টা যাত্রা বিরতীর পর বিকেল ৩.৩০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিলাসবহুল এই জাহাজ। গত বছর ৩০ জানুয়ারী এক জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য যাত্রা শুরু হয় কাংখিত এই নৌরুটের।

কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিনস পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.) এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় অবশেষে এই দাবি পূরণ হল বলা চলে। অন্যদিকে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্রগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাসটার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এই কোম্পানীর আরেক বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘এমভি বেওয়ান’। এটাও চলতি পর্যটন মৌসমে চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনসের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করবে। চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনস রুটেও সমুদ্রগামী বিলাসবহুল কোন জাহাজের যাতায়াত এটাই প্রথম।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লিলাভূমী বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিঁছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারনে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ক্রমশঃ এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই গুনী উদ্যোক্তা তথা শিল্পপতি।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন- দু’টি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি করে। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, পাহাড় সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজার এর গুরুত্ব অন্যতম। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ- সেন্টমার্টিনস্। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনস এর গুরুত্ব বরাবরই অসিম। কিন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনস যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হত টেকনাফের এবরোথেবরো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থল পথ। সম্প্রতি এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে রুপ দিয়েছে। নিংসন্দেহে যা এক বিরল সুযোগ ও সম্ভাবনার পদধ্বনী।
ভ্রমণের ব্যায়সহ বিস্তারিত জানতে ঃ ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৯, ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৪

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঢাবি এলাকায় তিন ককটেল বিস্ফোরণ- বিক্ষোভ ছাত্রদলের

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনস যাতায়াত শুরু

Update Time : ০৬:১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১

শুরু হল দেশের প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনসের মধ্যকার যাতায়াত। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে গতকাল সকাল ৭.৩০ টায় যাত্রা শুরু করে দুপুর ০১ টায় সেন্টমার্টিনস পৌঁছায় জাহাজটি। ওখানে ২.৩০ ঘন্টা যাত্রা বিরতীর পর বিকেল ৩.৩০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিলাসবহুল এই জাহাজ। গত বছর ৩০ জানুয়ারী এক জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য যাত্রা শুরু হয় কাংখিত এই নৌরুটের।

কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিনস পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.) এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় অবশেষে এই দাবি পূরণ হল বলা চলে। অন্যদিকে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্রগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাসটার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এই কোম্পানীর আরেক বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘এমভি বেওয়ান’। এটাও চলতি পর্যটন মৌসমে চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনসের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করবে। চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনস রুটেও সমুদ্রগামী বিলাসবহুল কোন জাহাজের যাতায়াত এটাই প্রথম।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লিলাভূমী বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিঁছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারনে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ক্রমশঃ এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই গুনী উদ্যোক্তা তথা শিল্পপতি।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন- দু’টি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি করে। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, পাহাড় সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজার এর গুরুত্ব অন্যতম। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ- সেন্টমার্টিনস্। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনস এর গুরুত্ব বরাবরই অসিম। কিন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনস যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হত টেকনাফের এবরোথেবরো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থল পথ। সম্প্রতি এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে রুপ দিয়েছে। নিংসন্দেহে যা এক বিরল সুযোগ ও সম্ভাবনার পদধ্বনী।
ভ্রমণের ব্যায়সহ বিস্তারিত জানতে ঃ ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৯, ০১৮৭০-৭৩২ ৫৯৪