Dhaka ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি খেকো এখন কুষ্টিয়া ভূমি অফিস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০
  • ১৬১ Time View

মামলার রায় প্রকাশের দেড় বছরের অধিক সময় পার হলেও কুষ্টিয়া পৌরসভার দাদাপুর সড়কের পাশে অবস্থিত বারখাদা ভূমি অফিসের দখলে থাকা ব্যক্তিগত সম্পত্তি কুষ্টিয়া ভূমি অফিস জমির মালিক প্রকৃত মালিক আব্দুল মজিদকে খারিজ করে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন জমির মালিক।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের মৃত খয়বর আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল মজিদ প্রতিবেদককে বলেন, বাড়াদি মৌজার তফশিল মতে মৌজা নম্বর ৬৭৬ ও ১১৬৭, ম্যাপ নম্বর ৫৫৬৫ ও ৫৫৬৬ ও প্রাপ্ত জমি .৫৭৮ একর জমি দীর্ঘ এক যুগ ধরে বারখাদা ভূমি অফিস জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। যার প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে মোকাম কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ৫৮/২০১৩ কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসের কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করি। দীর্ঘ ছয়টি বছর মামলা চালানোর পর ১৩/০১/২০১৯ তারিখে মহামান্য আদালত আমার পক্ষে রায় প্রকাশ করেন।
উক্ত রায়ের কপি সংযুক্ত করে বারখাদা ভূমি অফিসে ও কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসে জমি খারিজের জন্য গত ১৯/০৩/২০১৯ তারিখে জমি খারিজ করে দেওয়ার জন্য একটি মিস কেস করি, যার স্মারক নং ২০/(১৪৩)/১৯-২০। ৮ মাস ধরে আমাকে ঘুরিয়ে তারা বলছে আদালতের রায় অনেক ভুলভ্রান্তি আছে ওগুলো সংশোধন করে নিয়ে আসেন তারপর কেস নিব। ৮ মাস ঘোরানোর পর ০৩/০৯/২০১৯ তারিখে প্রথম ডেট দেন ভূমি অফিস। উক্ত মিস কেস করার পরেও কুষ্টিয়া ভূমি অফিস দিনের-পর-দিন বছরের পর বছর ঘোরাচ্ছেন, আজ না কাল কাল না পরশু এভাবে পার করে দিয়েছেন দেড় বছর। উক্ত ধার্যকৃত ডেট এর পর থেকে সাতটি ডেট পরিবর্তন করেছেন কুষ্টিয়া ভূমি অফিস।
হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের আব্দুল মজিদ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি একজন বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদ দীর্ঘ ২০ বছর তিনি অত্র এলাকার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বর্তমানে তার সন্তানরা দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। অথচ এই সরকারের আমলে তাকে নিয়ে ভূমি অফিস লীলা খেলায় মেতে উঠেছেন, তাকে নাকে বরশি দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। এটা বড়ই দুঃখজনক বিষয় যে, মহামান্য আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে কিভাবে একটি ভূমি অফিস ভূমিদস্যুতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।
আব্দুল মজিদ এটাও বলেন গত ১৯/০৩/২০১৯ তারিখ থেকে কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিস আমাকে পরপর সাতটি ডেট দিয়েছে কিন্তু কোনভাবে বসতে রাজি হননি সহকারী কমিশনার (ভূমি)। যেদিন ডেট থাকে ঐদিন অফিসে গেলে নতুন করে আবার আরেকটি ডেট দেন, এটাই কুষ্টিয়া ভূমি অফিসের রীতিতে পরিণত হয়েছে বলে জানালেন তিনি। আগামী নভেম্বর মাসে একটি ডেট আছে বলে ভুক্তভোগী প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারখাদা ভূমি অফিসের তহশিলদার মজিবর রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বললে, তিনি স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ আদালতের রায় সঠিক আছে আমাদের অফিসের মধ্যে আব্দুল মজিদের .৫৭৮ একর জমি ঢুকে আছে, উক্ত জমি তারা অবশ্যই পাবেন। উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমরা আপিল করি নাই। আপিলের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগে। তবে আমি জমির বিষয়ে প্রতিবেদন গত ৯ মাস আগে ভূমি অফিসে জমা দিয়েছি বলে স্বীকার করেন।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’ সিফাত উদ্দিনের মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার তেমনটি জানা নাই আমি নতুন এসেছি ইতিপূর্বে যারা ছিলেন ঐ সকল ভূমি কর্মকর্তারা বিষয়টি হয়তো অবগত আছেন। তবে আমি চেষ্টা করব আগামী ধার্যকৃত তারিখে কাগজপত্র দেখে একটি সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ বলেন, মহামান্য আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য জ্ঞাত করা হলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শাপলা চত্বর মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

জমি খেকো এখন কুষ্টিয়া ভূমি অফিস

Update Time : ০৪:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০

মামলার রায় প্রকাশের দেড় বছরের অধিক সময় পার হলেও কুষ্টিয়া পৌরসভার দাদাপুর সড়কের পাশে অবস্থিত বারখাদা ভূমি অফিসের দখলে থাকা ব্যক্তিগত সম্পত্তি কুষ্টিয়া ভূমি অফিস জমির মালিক প্রকৃত মালিক আব্দুল মজিদকে খারিজ করে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন জমির মালিক।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের মৃত খয়বর আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল মজিদ প্রতিবেদককে বলেন, বাড়াদি মৌজার তফশিল মতে মৌজা নম্বর ৬৭৬ ও ১১৬৭, ম্যাপ নম্বর ৫৫৬৫ ও ৫৫৬৬ ও প্রাপ্ত জমি .৫৭৮ একর জমি দীর্ঘ এক যুগ ধরে বারখাদা ভূমি অফিস জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। যার প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে মোকাম কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ৫৮/২০১৩ কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসের কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করি। দীর্ঘ ছয়টি বছর মামলা চালানোর পর ১৩/০১/২০১৯ তারিখে মহামান্য আদালত আমার পক্ষে রায় প্রকাশ করেন।
উক্ত রায়ের কপি সংযুক্ত করে বারখাদা ভূমি অফিসে ও কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসে জমি খারিজের জন্য গত ১৯/০৩/২০১৯ তারিখে জমি খারিজ করে দেওয়ার জন্য একটি মিস কেস করি, যার স্মারক নং ২০/(১৪৩)/১৯-২০। ৮ মাস ধরে আমাকে ঘুরিয়ে তারা বলছে আদালতের রায় অনেক ভুলভ্রান্তি আছে ওগুলো সংশোধন করে নিয়ে আসেন তারপর কেস নিব। ৮ মাস ঘোরানোর পর ০৩/০৯/২০১৯ তারিখে প্রথম ডেট দেন ভূমি অফিস। উক্ত মিস কেস করার পরেও কুষ্টিয়া ভূমি অফিস দিনের-পর-দিন বছরের পর বছর ঘোরাচ্ছেন, আজ না কাল কাল না পরশু এভাবে পার করে দিয়েছেন দেড় বছর। উক্ত ধার্যকৃত ডেট এর পর থেকে সাতটি ডেট পরিবর্তন করেছেন কুষ্টিয়া ভূমি অফিস।
হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের আব্দুল মজিদ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি একজন বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ রাজনীতিবিদ দীর্ঘ ২০ বছর তিনি অত্র এলাকার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বর্তমানে তার সন্তানরা দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। অথচ এই সরকারের আমলে তাকে নিয়ে ভূমি অফিস লীলা খেলায় মেতে উঠেছেন, তাকে নাকে বরশি দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। এটা বড়ই দুঃখজনক বিষয় যে, মহামান্য আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে কিভাবে একটি ভূমি অফিস ভূমিদস্যুতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।
আব্দুল মজিদ এটাও বলেন গত ১৯/০৩/২০১৯ তারিখ থেকে কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিস আমাকে পরপর সাতটি ডেট দিয়েছে কিন্তু কোনভাবে বসতে রাজি হননি সহকারী কমিশনার (ভূমি)। যেদিন ডেট থাকে ঐদিন অফিসে গেলে নতুন করে আবার আরেকটি ডেট দেন, এটাই কুষ্টিয়া ভূমি অফিসের রীতিতে পরিণত হয়েছে বলে জানালেন তিনি। আগামী নভেম্বর মাসে একটি ডেট আছে বলে ভুক্তভোগী প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারখাদা ভূমি অফিসের তহশিলদার মজিবর রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বললে, তিনি স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ আদালতের রায় সঠিক আছে আমাদের অফিসের মধ্যে আব্দুল মজিদের .৫৭৮ একর জমি ঢুকে আছে, উক্ত জমি তারা অবশ্যই পাবেন। উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমরা আপিল করি নাই। আপিলের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগে। তবে আমি জমির বিষয়ে প্রতিবেদন গত ৯ মাস আগে ভূমি অফিসে জমা দিয়েছি বলে স্বীকার করেন।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)’ সিফাত উদ্দিনের মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার তেমনটি জানা নাই আমি নতুন এসেছি ইতিপূর্বে যারা ছিলেন ঐ সকল ভূমি কর্মকর্তারা বিষয়টি হয়তো অবগত আছেন। তবে আমি চেষ্টা করব আগামী ধার্যকৃত তারিখে কাগজপত্র দেখে একটি সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ বলেন, মহামান্য আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য জ্ঞাত করা হলো।