Dhaka ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজীপুরে বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০
  • ১৯৫ Time View

জনবল সংকট ও সঠিক তদারকির অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো। ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি জনিত কারণে। জনশূন্য হয়ে পড়েছে প্রায় সবগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জোড়াতালি দিয়ে চলছে সব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা, গান্ধাইল, সোনামুখী সহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক এর পদ থাকলেও শুভগাছা ইউনিয়নের টেংলাহাটা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন উপ -সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা দিয়ে ও গান্ধাইল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। বাকি পদ গুলো বদলী জনিত জটিলতায় রয়েছে শুণ্য। এতে করে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। জনবল সঙ্কটের কারণে গর্ভবতী মহিলারা এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে তাদেরকে নিয়ে যেতে হচ্ছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জনবল না থাকায় নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে অনেক উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র জনবলের অভাবে। অনেকদিন ধরে চিকিৎসক নেই, ওষুধও সংকট ও অন্যান্য পদে লোক নেই। তাই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সঠিকভাবে নজরদারি না থাকায় এ সকল সেবা কেন্দ্রগুলো ঝোপঝাড়ের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আমরা দ্রুত চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে লোক নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার মোমেনা পারভিন পারুল সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, লোকবলের অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার ডাক্তার সহ অন্যান্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রত্যেকটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার সহ অন্যান্য পদে জনবল দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯০ দশকের নস্টালজিয়া বনাম জলবায়ু সংকট: এআই ছবির আড়ালে পুড়ছে পৃথিবী

কাজীপুরে বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

Update Time : ০৭:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০

জনবল সংকট ও সঠিক তদারকির অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো। ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি জনিত কারণে। জনশূন্য হয়ে পড়েছে প্রায় সবগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জোড়াতালি দিয়ে চলছে সব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

সূত্রে জানা যায়, কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা, গান্ধাইল, সোনামুখী সহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক এর পদ থাকলেও শুভগাছা ইউনিয়নের টেংলাহাটা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন উপ -সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা দিয়ে ও গান্ধাইল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। বাকি পদ গুলো বদলী জনিত জটিলতায় রয়েছে শুণ্য। এতে করে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। জনবল সঙ্কটের কারণে গর্ভবতী মহিলারা এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে তাদেরকে নিয়ে যেতে হচ্ছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জনবল না থাকায় নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে অনেক উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র জনবলের অভাবে। অনেকদিন ধরে চিকিৎসক নেই, ওষুধও সংকট ও অন্যান্য পদে লোক নেই। তাই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সঠিকভাবে নজরদারি না থাকায় এ সকল সেবা কেন্দ্রগুলো ঝোপঝাড়ের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আমরা দ্রুত চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে লোক নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার মোমেনা পারভিন পারুল সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, লোকবলের অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার ডাক্তার সহ অন্যান্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রত্যেকটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার সহ অন্যান্য পদে জনবল দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি।