Dhaka ০৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, সেপ্টেম্বরে তফসিল

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিয়নের নির্বাচন আইনগতভাবে আগে আয়োজনের সময় হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে তা অক্টোবরে পেছাতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজন করতে চায় কমিশন। নভেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা সময়মতো শেষ করা গেলে ডিসেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হবে। এ জন্য নভেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়া বা পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে ইসি।

সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু কমিশনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, দুর্গাপূজা এবং অন্যান্য জাতীয় ও সামাজিক কর্মসূচির বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। আগামী বছরের শুরুতে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় নির্বাচনের জন্য কমিশনের হাতে কার্যকর সময়ও সীমিত।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। প্রতিকূল মৌসুম এড়িয়ে শুষ্ক সময়ে এসব এলাকায় ভোট নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক বিষয় নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য আগামী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইসির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও সর্বগ্রহণযোগ্য করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি প্রস্তুত। এসব নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটার কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে তফসিল, প্রয়োজন হলে অক্টোবরে সমন্বয় এবং ডিসেম্বর থেকে প্রথম ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা, উৎসব ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলশীর আটতলা ভবনে পুলিশের অভিযান: ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস

প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোট, সেপ্টেম্বরে তফসিল

Update Time : ০৪:০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিয়নের নির্বাচন আইনগতভাবে আগে আয়োজনের সময় হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে তা অক্টোবরে পেছাতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজন করতে চায় কমিশন। নভেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা সময়মতো শেষ করা গেলে ডিসেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হবে। এ জন্য নভেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়া বা পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে ইসি।

সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু কমিশনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, দুর্গাপূজা এবং অন্যান্য জাতীয় ও সামাজিক কর্মসূচির বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। আগামী বছরের শুরুতে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় নির্বাচনের জন্য কমিশনের হাতে কার্যকর সময়ও সীমিত।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। প্রতিকূল মৌসুম এড়িয়ে শুষ্ক সময়ে এসব এলাকায় ভোট নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক বিষয় নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য আগামী সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইসির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও সর্বগ্রহণযোগ্য করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি প্রস্তুত। এসব নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটার কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে তফসিল, প্রয়োজন হলে অক্টোবরে সমন্বয় এবং ডিসেম্বর থেকে প্রথম ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা, উৎসব ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া হবে।