Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: মৃত্যু দেড় শতাধিক, নিখোঁজ বহু পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেক্স –দৈনিক প্রান্তিক।


প্রকৃতির চরম রোষে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে হিমালয়ের কোলে থাকা প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলা সংলগ্ন নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এক বিধ্বংসী হড়পা বানে (Flash Flood) ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ, যার মধ্যে বহু দেশি ও বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগের কারণ:
ভূবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, হড়পা বানের ঠিক আগেই ওই পার্বত্য অঞ্চলে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প এবং তীব্র তুষারধস ঘটে। এর ফলে বিশাল পরিমাণ পাথর এবং বরফের স্তূপ এসে ভোটেকোশী নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। নদীর উজানে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়ে বিপুল পরিমাণ জল জমা হতে থাকে। অবশেষে জলের প্রবল চাপে সেই বাঁধ ভেঙে এক লপ্তে কোটি কোটি গ্যালন জল তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে, যা মুহূর্তের মধ্যে হড়পা বানের রূপ নেয়।

ক্ষয়ক্ষতি বিপর্যয়:
পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে নদীর দু-পাশে থাকা একের পর এক গ্রাম চোখের পলকে ভেসে গিয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং সেতু পুরোপুরি তছনছ হয়ে গিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় বেড়াতে যাওয়া কয়েক শতাধিক পর্যটক এই মুহূর্তে আটকা পড়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিখোঁজদের তালিকায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উদ্ধার অভিযান সতর্কতা:
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে নেপাল সরকার দেশজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী হেলিকপ্টার ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ বণ্টনের কাজও শুরু হয়েছে।

এদিকে নেপালের গন্ডক ও কোশী নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশের জেলাগুলোতেও বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো সীমান্ত লাগোয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা জারি করেছে।


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলশীর আটতলা ভবনে পুলিশের অভিযান: ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: মৃত্যু দেড় শতাধিক, নিখোঁজ বহু পর্যটক

Update Time : ০৭:৩০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেক্স –দৈনিক প্রান্তিক।


প্রকৃতির চরম রোষে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে হিমালয়ের কোলে থাকা প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলা সংলগ্ন নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এক বিধ্বংসী হড়পা বানে (Flash Flood) ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ, যার মধ্যে বহু দেশি ও বিদেশি পর্যটক রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগের কারণ:
ভূবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক অনুমান, হড়পা বানের ঠিক আগেই ওই পার্বত্য অঞ্চলে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প এবং তীব্র তুষারধস ঘটে। এর ফলে বিশাল পরিমাণ পাথর এবং বরফের স্তূপ এসে ভোটেকোশী নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। নদীর উজানে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়ে বিপুল পরিমাণ জল জমা হতে থাকে। অবশেষে জলের প্রবল চাপে সেই বাঁধ ভেঙে এক লপ্তে কোটি কোটি গ্যালন জল তীব্র গতিতে নিচের দিকে নেমে আসে, যা মুহূর্তের মধ্যে হড়পা বানের রূপ নেয়।

ক্ষয়ক্ষতি বিপর্যয়:
পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে নদীর দু-পাশে থাকা একের পর এক গ্রাম চোখের পলকে ভেসে গিয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং সেতু পুরোপুরি তছনছ হয়ে গিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় বেড়াতে যাওয়া কয়েক শতাধিক পর্যটক এই মুহূর্তে আটকা পড়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিখোঁজদের তালিকায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

উদ্ধার অভিযান সতর্কতা:
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে নেপাল সরকার দেশজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী হেলিকপ্টার ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ বণ্টনের কাজও শুরু হয়েছে।

এদিকে নেপালের গন্ডক ও কোশী নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশের জেলাগুলোতেও বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো সীমান্ত লাগোয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা জারি করেছে।