Dhaka ১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের জানালায় নতুন ভোরের আলো: বঙ্গভবনের বসন্ত ও জনগণের প্রতীক্ষা

বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক প্রান্তিক।
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬

আজ একুশে আগস্ট-সন্ধ্যা। এই স্নিগ্ধ শ্রাবণ-সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে যখন ঝাড়বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠল, তখন মনে হলো—এই আলো কেবল কাচের আলোই নয়, এ যেন দীর্ঘ কুয়াশাচ্ছন্ন রাত্রির পর এ দেশের কোটি মানুষের চোখে জেগে ওঠা এক চিলতে ভোরের আলো। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যাঁর চুলে রাজপথের ধুলো আর কপালে এ দেশের মাটির দীর্ঘ সংগ্রামের দাগ লেগে আছে, তিনি আজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

সংসদের ভেতরে ভোটের হিসাব-নিকাশ অনেকেই করবেন; কে কত ভোট পেলেন, সেই গাণিতিক খতিয়ান হয়তো খবরের কাগজের পাতায় জমা থাকবে। কিন্তু আসল হিসাবটি লুকিয়ে আছে এই বঙ্গভবনের সীমানা ছাড়িয়ে দূর পল্লিগ্রামের চায়ের দোকানে কিংবা শহরের খেটে খাওয়া মানুষের ঘর্মাক্ত কপালে। মির্জা ফখরুলের মতো একজন সজ্জন, সহনশীল ও প্রাজ্ঞ অভিভাবককে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে দেশের মানুষ আজ এক গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির পদে আসীন হওয়া নয়, এটি হলো রাজনীতিতে ভদ্রতা, পরমসহিষ্ণুতা ও শুভবুদ্ধির এক মহিমান্বিত প্রত্যাবর্তন।

তবে এই নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা কেবল রাষ্ট্রপতির শপথের মধ্যেই থমকে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তরুণ ও প্রবীণের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়া নতুন মন্ত্রিসভার অবয়ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের স্পন্দনটি ধরতে পেরেছেন। আর তাই সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি তাঁর সারথিদের নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন। ড. আবদুল মঈন খানের মতো পণ্ডিত ও মিতভাষী মানুষ যখন স্থানীয় সরকারের মতো জনবান্ধব মন্ত্রণালয়ে আসেন, তখন গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের এক নতুন জোয়ারের স্বপ্ন জাগে। আবার ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মতো প্রখর মেধারী ও তারুণ্যের প্রতীক যখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হাল ধরবেন, তখন মনে হয়—বাক-স্বাধীনতার ও মুক্ত চিন্তার অবরুদ্ধ দুয়ারগুলো এবার সত্যি সত্যিই খুলে যাবে। পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধি সাচিং প্রু জেরী কিংবা গাইবান্ধার শামীম কায়সার লিংকনদের অন্তর্ভুক্তির মাঝে লুকিয়ে আছে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে বুকে টেনে নেওয়ার এক পলিটিক্যাল আর্ট বা রাজনৈতিক মহত্ত্ব।

এ দেশের মানুষ তো খুব বেশি কিছু চায় না। তারা চায় একটু শান্তিতে বাঁচতে, ডাল-ভাতের সংস্থান করতে আর বুক ভরে স্বাধীন বাতাস নিতে। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের এই যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তা কোনো অলীক মোহ নয়, বরং এক তীব্র মানবিক অধিকারের দাবি। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, এই তরুণ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রপতির যৌথ নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং সেবার মানসিকতা নিয়ে যে নতুন যাত্রার সূচনা আজ হলো, তা আমাদের এক নতুন সম্ভাবনার গোল্ডেন এজ বা সুবর্ণ জয়ন্তীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গভবনের দরবার হলের কানায় কানায় পূর্ণ বারোশো অতিথির করতালির শব্দে যখন চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠল, তখন বাইরের খোলা আকাশে একটা চিল উড়ে গেল। ঠিক যেন একটি ছোটগল্পের শেষ দৃশ্যের মতো—যেখানে সব দুঃখ-বেদনার অবসান ঘটিয়ে এক নিঃশব্দ আশাবাদের নতুন গল্প শুরু হয়। এই সরকার জনগণের সেই পবিত্র আমানত ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে এক বৈষম্যহীন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ইতিহাসের জানালায় নতুন ভোরের আলো: বঙ্গভবনের বসন্ত ও জনগণের প্রতীক্ষা

Update Time : ০১:২৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক প্রান্তিক।
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬

আজ একুশে আগস্ট-সন্ধ্যা। এই স্নিগ্ধ শ্রাবণ-সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে যখন ঝাড়বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠল, তখন মনে হলো—এই আলো কেবল কাচের আলোই নয়, এ যেন দীর্ঘ কুয়াশাচ্ছন্ন রাত্রির পর এ দেশের কোটি মানুষের চোখে জেগে ওঠা এক চিলতে ভোরের আলো। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যাঁর চুলে রাজপথের ধুলো আর কপালে এ দেশের মাটির দীর্ঘ সংগ্রামের দাগ লেগে আছে, তিনি আজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

সংসদের ভেতরে ভোটের হিসাব-নিকাশ অনেকেই করবেন; কে কত ভোট পেলেন, সেই গাণিতিক খতিয়ান হয়তো খবরের কাগজের পাতায় জমা থাকবে। কিন্তু আসল হিসাবটি লুকিয়ে আছে এই বঙ্গভবনের সীমানা ছাড়িয়ে দূর পল্লিগ্রামের চায়ের দোকানে কিংবা শহরের খেটে খাওয়া মানুষের ঘর্মাক্ত কপালে। মির্জা ফখরুলের মতো একজন সজ্জন, সহনশীল ও প্রাজ্ঞ অভিভাবককে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে দেশের মানুষ আজ এক গভীর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির পদে আসীন হওয়া নয়, এটি হলো রাজনীতিতে ভদ্রতা, পরমসহিষ্ণুতা ও শুভবুদ্ধির এক মহিমান্বিত প্রত্যাবর্তন।

তবে এই নতুন ঋতুর আগমনী বার্তা কেবল রাষ্ট্রপতির শপথের মধ্যেই থমকে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তরুণ ও প্রবীণের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়া নতুন মন্ত্রিসভার অবয়ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের স্পন্দনটি ধরতে পেরেছেন। আর তাই সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি তাঁর সারথিদের নতুন করে সাজিয়ে নিচ্ছেন। ড. আবদুল মঈন খানের মতো পণ্ডিত ও মিতভাষী মানুষ যখন স্থানীয় সরকারের মতো জনবান্ধব মন্ত্রণালয়ে আসেন, তখন গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের এক নতুন জোয়ারের স্বপ্ন জাগে। আবার ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মতো প্রখর মেধারী ও তারুণ্যের প্রতীক যখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হাল ধরবেন, তখন মনে হয়—বাক-স্বাধীনতার ও মুক্ত চিন্তার অবরুদ্ধ দুয়ারগুলো এবার সত্যি সত্যিই খুলে যাবে। পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধি সাচিং প্রু জেরী কিংবা গাইবান্ধার শামীম কায়সার লিংকনদের অন্তর্ভুক্তির মাঝে লুকিয়ে আছে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে বুকে টেনে নেওয়ার এক পলিটিক্যাল আর্ট বা রাজনৈতিক মহত্ত্ব।

এ দেশের মানুষ তো খুব বেশি কিছু চায় না। তারা চায় একটু শান্তিতে বাঁচতে, ডাল-ভাতের সংস্থান করতে আর বুক ভরে স্বাধীন বাতাস নিতে। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের এই যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তা কোনো অলীক মোহ নয়, বরং এক তীব্র মানবিক অধিকারের দাবি। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, এই তরুণ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রপতির যৌথ নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং সেবার মানসিকতা নিয়ে যে নতুন যাত্রার সূচনা আজ হলো, তা আমাদের এক নতুন সম্ভাবনার গোল্ডেন এজ বা সুবর্ণ জয়ন্তীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বঙ্গভবনের দরবার হলের কানায় কানায় পূর্ণ বারোশো অতিথির করতালির শব্দে যখন চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠল, তখন বাইরের খোলা আকাশে একটা চিল উড়ে গেল। ঠিক যেন একটি ছোটগল্পের শেষ দৃশ্যের মতো—যেখানে সব দুঃখ-বেদনার অবসান ঘটিয়ে এক নিঃশব্দ আশাবাদের নতুন গল্প শুরু হয়। এই সরকার জনগণের সেই পবিত্র আমানত ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে এক বৈষম্যহীন, সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।