Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ – আদেশ ২১ জুলাই

জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা ও ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বি. এম. তারিকুল কবীর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আদালত পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকা আসামি মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে উচ্চমূল্যে ছাগল কেনার ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হলে মতিউর রহমানের নাম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

একরাম হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি: সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ – আদেশ ২১ জুলাই

Update Time : ০৫:০০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা ও ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ) বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বি. এম. তারিকুল কবীর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আদালত পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকা আসামি মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিনি দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে উচ্চমূল্যে ছাগল কেনার ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হলে মতিউর রহমানের নাম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।