Dhaka ০৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড বহাল, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রকাশ করে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার এবং ২৪ জন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে পারে। এদিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দুই হাত প্রসারিত করে সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ তাঁর দিকে গুলি ছুড়ছে। ওই দৃশ্য দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছানো রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অংশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

“গাজীপুরে কয়েক জায়গায় ‘টর্চার সেল’ গড়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে” – অভিযোগ সরকারদলীয় এমপির

আবু সাঈদ হত্যায় দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড বহাল, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Update Time : ০৭:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রকাশ করে।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার মোট ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার এবং ২৪ জন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে পারে। এদিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দুই হাত প্রসারিত করে সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন এবং পুলিশ তাঁর দিকে গুলি ছুড়ছে। ওই দৃশ্য দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছানো রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অংশ।