সায়েদাবাদ-যমুনা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | সায়েদাবাদ-যমুনা মহাসড়ক | ৬ জুন ২০২৬
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢলে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে সায়েদাবাদ থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে কর্মস্থলে ফেরা হাজারো যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, চালক ও হেলপার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি থেমে থেমে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। ফলে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আনন্দ শেষে জীবিকার তাগিদে সবাই কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে মহাসড়কের অচলাবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে।
ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, “সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে একই এলাকায় আটকে আছি। আগামীকাল অফিসে যোগ দেওয়ার কথা, অথচ কখন পৌঁছাতে পারব জানি না।”
আরেক যাত্রী বলেন, “বাসে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ আছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় তারা খুব কষ্ট পাচ্ছেন। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”
পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
একজন বাসচালক বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে যে পথ যেতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগে, আজ সেখানে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। বারবার থামতে হচ্ছে, যাত্রীরাও ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছেন।”
একজন হেলপার বলেন, “সকাল থেকে রাস্তায় আছি। যানজটের কারণে ঠিকমতো খাবারও খেতে পারিনি। যাত্রীরা বারবার জানতে চাইছেন কখন পৌঁছাবো, কিন্তু আমাদের কাছেও কোনো উত্তর নেই।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মোড়ে যানবাহনের চাপ, ধীরগতির চলাচল এবং সড়কে শৃঙ্খলার অভাবও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা মহাসড়কে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এই দুর্ভোগ কবে কমবে—সে প্রশ্ন এখন হাজারো যাত্রীর মুখে মুখে। যানজটমুক্ত ও নিরাপদ যাত্রার প্রত্যাশায় এখনও সড়কেই অপেক্ষা করছেন অনেকে।
মোঃ রওশন আলী 













