Dhaka ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বানিয়াচঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে আহত অর্ধশতাধিক, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা-এর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে ফরিদ আহমদ পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে নিতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইউনিয়নজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই সোমবার সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও, কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর বানিয়াচং থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কায় ইউনিয়নজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বানিয়াচঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

Update Time : ১১:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে আহত অর্ধশতাধিক, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা-এর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে ফরিদ আহমদ পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে নিতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইউনিয়নজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই সোমবার সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও, কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর বানিয়াচং থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কায় ইউনিয়নজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।