Dhaka ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন: দ্রুততম বিচারের নজির

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলার রায় আগামী ৭ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (ক্লোজিং আর্গুমেন্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন।এর আগে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) মাত্র এক দিনেই মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়, যা দেশের বিচার বিভাগে দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণমামলার বিবরণী ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে মিরপুর-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প এলাকার একটি ভবনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা সকালে নিখোঁজ হলে তার মা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানার দরজার সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানার শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার গলা কাটা ধড় এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। তবে প্রধান আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে আদালতে নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সোহেল।আদালতে আসামির নাটকীয়তা ও স্বীকারোক্তিআজ আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু জানান, প্রধান আসামি সোহেল রানা এর আগে গতকাল (বুধবার) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তবে আজ শুনানির সময় সে অন্য এক আসামির প্ররোচনায় ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি তুলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে। রাষ্ট্রপক্ষ এই দাবিকে বিচার বিলম্বিত করার অপকৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অপরদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার প্রথম থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুছা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়াগত ১৯ মে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৩ জুন আসামিদের পরীক্ষা শেষে আজ ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হলো। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও বিশেষ তদারকির কারণে মাত্র ১৭ দিনে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “ডিএনএ টেস্ট, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ১৬ জন সাক্ষীর অকাট্য জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) প্রত্যাশা করছি।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমাবেশ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন: দ্রুততম বিচারের নজির

Update Time : ০৮:৩২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলার রায় আগামী ৭ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (ক্লোজিং আর্গুমেন্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন।এর আগে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) মাত্র এক দিনেই মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়, যা দেশের বিচার বিভাগে দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণমামলার বিবরণী ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে মিরপুর-১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প এলাকার একটি ভবনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা সকালে নিখোঁজ হলে তার মা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানার দরজার সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানার শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে রামিসার গলা কাটা ধড় এবং বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। তবে প্রধান আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে আদালতে নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সোহেল।আদালতে আসামির নাটকীয়তা ও স্বীকারোক্তিআজ আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু জানান, প্রধান আসামি সোহেল রানা এর আগে গতকাল (বুধবার) ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তবে আজ শুনানির সময় সে অন্য এক আসামির প্ররোচনায় ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি তুলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে। রাষ্ট্রপক্ষ এই দাবিকে বিচার বিলম্বিত করার অপকৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অপরদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার প্রথম থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুছা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়াগত ১৯ মে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৩ জুন আসামিদের পরীক্ষা শেষে আজ ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হলো। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও বিশেষ তদারকির কারণে মাত্র ১৭ দিনে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “ডিএনএ টেস্ট, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ১৬ জন সাক্ষীর অকাট্য জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) প্রত্যাশা করছি।”