নিজস্ব প্রতিবেদন-প্রান্তিক।
দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় “জনতার প্রতিরোধ” বা তথাকথিত “মব অ্যাকশন”-এর প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে কাউকে আটক বা শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে গিয়ে জনতার সংঘবদ্ধ হস্তক্ষেপ—কখনো কখনো সহিংস রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিচারবহির্ভূত শাস্তি বা মব কালচার একটি ভয়াবহ প্রবণতা, যা আইনের শাসনকে দুর্বল করে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধর বা অপমান করার ঘটনাও ঘটছে, যা পরবর্তীতে নিরপরাধ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশ সহ অন্যান্য সংস্থা। তারা বলছে, মাদক দমনে জনসচেতনতা ও তথ্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সন্দেহভাজন কাউকে আটক করার ক্ষমতা কেবল আইনগত কর্তৃপক্ষের।
সামাজিক বাস্তবতা ও ঝুঁকি
গ্রাম ও শহরের কিছু এলাকায় মাদকবিরোধী জনতার উদ্যোগকে শুরুতে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, তা দ্রুতই “মব জাস্টিস”-এ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে তিনটি বড় ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে—
ভুল ব্যক্তিকে টার্গেট করার সম্ভাবনা
ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অপব্যবহার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে যদি জনতা সহিংসতার পথে যায়, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মত
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া দরকার, কিন্তু সেটি অবশ্যই আইনগত কাঠামোর মধ্যে থাকতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা, পরিবারিক নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা—এই তিনটি উপাদানকে একসাথে কাজ করতে হবে।
মাদক সমাজের জন্য একটি গুরুতর হুমকি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই হুমকি মোকাবিলায় যদি মব কালচারকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে সমস্যার সমাধান না হয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। আইন হাতে তুলে নেওয়া নয়, বরং আইনকে শক্তিশালী করাই টেকসই পথ—এমনটাই মত সংশ্লিষ্টদের।
নিজস্ব প্রতিবেদন-প্রান্তিক। 
















