কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এবং পূর্বের সরকারের রেখে যাওয়া অবস্থাতেই সড়কটি রয়ে গেছে। নতুন সরকারের লক্ষ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করা।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৃষি খাতের অগ্রাধিকার
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষকরা। তাই কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। লবণ চাষীদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন
এর আগে সকালে কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব হবে।
বাজেট, কৃষি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ওষুধের দাম কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
নারী শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তবে ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চকরিয়া জনসভায় বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়; দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কক্সবাজার প্রিতিনিধি- প্রান্তিক। 























