Dhaka ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা খারিজ- হাম টিকা সংকট ও শিশু মৃত্যুর অভিযোগে আবেদন নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম টিকার সংকট ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক আবেদনটি নাকচ করেন।

এর আগে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।

মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরকে আসামি করা হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে দেশে হামের টিকার সংকট সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শত শত শিশুর মৃত্যু ও হাজার হাজার শিশু ঝুঁকির মুখে পড়ে। অভিযোগকারীর দাবি, এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং নাগরিকের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

মামলার আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের সহায়তায় হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে টিকা আমদানিতে বিলম্ব সৃষ্টি হয়ে দেশে সংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি ইউনিসেফও জানিয়েছে, সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, তারা অন্তত ১০ বার বৈঠকে এবং পাঁচটির বেশি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভির সহায়তায় সরকার জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ওই কর্মসূচির আওতায় ৩০টি উপজেলায় ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে, টিকা সংকট নিয়ে গত ৫ মে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটানোর কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক ব্যাঘাত, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকা সংগ্রহে বিলম্ব—সব মিলিয়ে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থানের পেছনে টিকার ঘাটতি ও কভারেজ কমে যাওয়াই বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা খারিজ- হাম টিকা সংকট ও শিশু মৃত্যুর অভিযোগে আবেদন নাকচ

Update Time : ১০:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম টিকার সংকট ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুন) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক আবেদনটি নাকচ করেন।

এর আগে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।

মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরকে আসামি করা হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে দেশে হামের টিকার সংকট সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শত শত শিশুর মৃত্যু ও হাজার হাজার শিশু ঝুঁকির মুখে পড়ে। অভিযোগকারীর দাবি, এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং নাগরিকের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

মামলার আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের সহায়তায় হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে টিকা আমদানিতে বিলম্ব সৃষ্টি হয়ে দেশে সংকট দেখা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি ইউনিসেফও জানিয়েছে, সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, তারা অন্তত ১০ বার বৈঠকে এবং পাঁচটির বেশি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছিল।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভির সহায়তায় সরকার জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ওই কর্মসূচির আওতায় ৩০টি উপজেলায় ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে, টিকা সংকট নিয়ে গত ৫ মে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটানোর কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক ব্যাঘাত, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকা সংগ্রহে বিলম্ব—সব মিলিয়ে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থানের পেছনে টিকার ঘাটতি ও কভারেজ কমে যাওয়াই বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।