লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংলাপ এবং খসড়া নথি আদান-প্রদান আপাতত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency।
গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য পথ খোলার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কিছু কঠোর শর্তারোপ এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির জেরে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভেস্তে গেল ।
ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিনদের সঙ্গে সমঝোতার অন্যতম মূল শর্ত ছিল লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। কিন্তু ইসরায়েল সেটি ক্রমাগত লঙ্ঘন করায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, গাজা ও লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ হবে না।এদিকে, মার্কিন সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের শহরতলীতে বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
ইরানের এই কঠোর পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা—জ্বালানি তেলের বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিতের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ৬ ডলার বৃদ্ধি পায়, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৬ শতাংশ। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ করার পাশাপাশি তেহরান বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এটি বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।একই সাথে ইরান তাদের আঞ্চলিক সামরিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ করছে। তারা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সক্রিয় রণক্ষেত্রগুলোতে তাদের মিত্র শক্তিকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানতে তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের শিয়া প্রতিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে নতুন একাধিক ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেক্স 



















