আন্তর্জাতিক ডেস্ক | | ৫ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ঘোষিত ইসরাইল-লেবানন আংশিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি চুক্তিটিকে “অপমানজনক” ও “আত্মসমর্পণের রূপরেখা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর পরপরই দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইল সীমান্তে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান Naim Qassem টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রস্তাবে হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল, যা তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না।
চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর দক্ষিণ লেবাননের Beaufort Castle সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়। হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা দাবি করেছে, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কয়েকটি ইসরাইলি মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ দুর্বল না করা পর্যন্ত ইসরাইল সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না।
অন্যদিকে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu চাপে রয়েছেন। দেশটির ডানপন্থী জোটের কয়েকজন নেতা যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এই চুক্তিকে “শান্তির শেষ সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করলেও হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | | ৫ জুন ২০২৬ 















