সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি–এর ২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নীল প্যানেল। ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৩টিতেই জয় তুলে নিয়েছেন প্যানেলটির প্রার্থীরা। কেবল একটি সদস্য পদে জয় পেয়েছে জামায়াতপন্থী সবুজ প্যানেল।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট। সম্পাদক পদেও বড় ব্যবধানে জয় পান নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী। তিনি দুই হাজার ৫৮২ ভোট অর্জন করেন, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট।
দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৩ ও ১৪ মে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে, মাঝখানে ছিল এক ঘণ্টার বিরতি। ভোট শেষে রাতেই গণনা শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।
সহসভাপতির দুটি পদে জয়ী হয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহসম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।
সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া এবং মো. টিপু সুলতান। অন্যদিকে সবুজ প্যানেলের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন চার হাজার ৪৮ জন আইনজীবী। ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪০ জন প্রার্থী।
যদিও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দলীয়, বাস্তবে রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক প্যানেলের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। অতীতে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল ও আওয়ামী লীগপন্থী সাদা প্যানেলের লড়াই ছিল নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ। তবে এবার বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
ফলে সমিতির ইতিহাসে এই প্রথম আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কোনো প্যানেল ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে নীল ও সবুজ প্যানেলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি–সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলও অংশ নেয়। এছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।



















