Dhaka ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বলের দাপটে কমেছে লেপর চাহিদা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জানুয়ারী ২০২২
  • ১৩৮ Time View

একজন মানুষ যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তার জীবনের তিন ভাগের একভাগ সময় কাটে বিছানায়। বিছানাকে আরামদায়ক করতে তাই সবার চেষ্টা থাকে। শহুরে বাসিন্দাদের অনেকে শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে কিনে রাখেন লেপ-তোষক। আবার কেউ করেন পুরনোগুলোর পুনঃমেরামত।
একসময় ধুনকরদের (লেপ-তোষক কারিগর) দিয়ে লেপ-তোষক তৈরি করার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় মেশিনে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস।

তারপরও শীতের আমেজের সঙ্গে সঙ্গে কার্তিক মাসের শুরু থেকেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় ধুনকরদের। কেউ দোকানে আবার কেউ পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন।

সারাদেশেই দেখা যায় এই চিত্র। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে শীতের প্রস্তুতি বেশি দেখা যায়। রাজধানী ঢাকায় জোরে শোরে শীতের প্রকোপ না বাড়লে নগরবাসিকে শীতের কাপড় নিয়েও বের হতে দেখা যায় না। আবার শীতকালের একটা নির্দিষ্ট সময় শীত পড়লে তখন আবার সচেতন হয়ে ওঠেন সবাই।

আজিমপুর বাস স্টেন্ডের পাশে ১৫ বছর ধরে লেপ-তোষকের দোকান করেন রহমত আলী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরু থেকেই ক্রেতারা লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে আসতে থাকে। শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তো। এখন আর তেমন ক্রেতা নেই, বিক্রিও কমে গেছে। আসলেও ম্যাট্রেস চায়। তাই আমরাও সেটি রাখছি।

দেখা গেছে, কারিগররা তুলার স্তূপ করে তার ওপর চ্যাপ্টা আকৃতির কাঠের পাটাতন দিয়ে তুলোধুনো করছেন। পুরোপুরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই তুলা ঢোকানো হয় নানান রঙের কাপড়ের তৈরি লেপ-তোষকের কভারে। এরপর শুরু হয় সুঁই-সুতোর কাজ। সেলাইয়ে বাঁধা পড়ে যায় সেই তুলা। আর এভাবেই তৈরি হয় একেকটি লেপ-তোষক।

জানা যায়, লেপ-তোষকের দাম সাধারণত নির্ভর করে তুলা ও কাপড়ের ওপর। আবার একেক দোকানে একেক ধরনের দাম নেওয়া হয়। ভালোমানের একটি তোষক বানাতে ১৫শ টাকা, মধ্যম মানের ১ হাজার টাকা, ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির ভালোমানের লেপ ২ হাজার ৫শ’ টাকা, মধ্যম মানের ১ হাজার ৫শ টাকা, শিমুল তুলার বালিশ সাড়ে ৬শ টাকা এবং কটন সুতার বালিশ বানাতে খরচ পড়ে দেড়শ টাকা।

আর ম্যাট্রেসের দাম ঠিক হয় এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্বের ভিত্তিতে। সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি খাটের জন্য মাঝারি পুরুত্বের একটি ম্যাট্রেস কিনতে ক্রেতাকে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। তবে একই আকারের ভালোমানের ম্যাট্রেস কিনতে খরচ হবে কমপক্ষে ৯ হাজার টাকা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

কম্বলের দাপটে কমেছে লেপর চাহিদা

Update Time : ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জানুয়ারী ২০২২

একজন মানুষ যদি আট ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে তার জীবনের তিন ভাগের একভাগ সময় কাটে বিছানায়। বিছানাকে আরামদায়ক করতে তাই সবার চেষ্টা থাকে। শহুরে বাসিন্দাদের অনেকে শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে কিনে রাখেন লেপ-তোষক। আবার কেউ করেন পুরনোগুলোর পুনঃমেরামত।
একসময় ধুনকরদের (লেপ-তোষক কারিগর) দিয়ে লেপ-তোষক তৈরি করার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন বাজার দখল করছে আধুনিক কারখানায় মেশিনে তৈরি জাজিম বা ম্যাট্রেস।

তারপরও শীতের আমেজের সঙ্গে সঙ্গে কার্তিক মাসের শুরু থেকেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় ধুনকরদের। কেউ দোকানে আবার কেউ পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন।

সারাদেশেই দেখা যায় এই চিত্র। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে শীতের প্রস্তুতি বেশি দেখা যায়। রাজধানী ঢাকায় জোরে শোরে শীতের প্রকোপ না বাড়লে নগরবাসিকে শীতের কাপড় নিয়েও বের হতে দেখা যায় না। আবার শীতকালের একটা নির্দিষ্ট সময় শীত পড়লে তখন আবার সচেতন হয়ে ওঠেন সবাই।

আজিমপুর বাস স্টেন্ডের পাশে ১৫ বছর ধরে লেপ-তোষকের দোকান করেন রহমত আলী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরু থেকেই ক্রেতারা লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে আসতে থাকে। শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তো। এখন আর তেমন ক্রেতা নেই, বিক্রিও কমে গেছে। আসলেও ম্যাট্রেস চায়। তাই আমরাও সেটি রাখছি।

দেখা গেছে, কারিগররা তুলার স্তূপ করে তার ওপর চ্যাপ্টা আকৃতির কাঠের পাটাতন দিয়ে তুলোধুনো করছেন। পুরোপুরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেই তুলা ঢোকানো হয় নানান রঙের কাপড়ের তৈরি লেপ-তোষকের কভারে। এরপর শুরু হয় সুঁই-সুতোর কাজ। সেলাইয়ে বাঁধা পড়ে যায় সেই তুলা। আর এভাবেই তৈরি হয় একেকটি লেপ-তোষক।

জানা যায়, লেপ-তোষকের দাম সাধারণত নির্ভর করে তুলা ও কাপড়ের ওপর। আবার একেক দোকানে একেক ধরনের দাম নেওয়া হয়। ভালোমানের একটি তোষক বানাতে ১৫শ টাকা, মধ্যম মানের ১ হাজার টাকা, ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির ভালোমানের লেপ ২ হাজার ৫শ’ টাকা, মধ্যম মানের ১ হাজার ৫শ টাকা, শিমুল তুলার বালিশ সাড়ে ৬শ টাকা এবং কটন সুতার বালিশ বানাতে খরচ পড়ে দেড়শ টাকা।

আর ম্যাট্রেসের দাম ঠিক হয় এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্বের ভিত্তিতে। সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি খাটের জন্য মাঝারি পুরুত্বের একটি ম্যাট্রেস কিনতে ক্রেতাকে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। তবে একই আকারের ভালোমানের ম্যাট্রেস কিনতে খরচ হবে কমপক্ষে ৯ হাজার টাকা।