Dhaka ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে আলু রপ্তানির চিন্তা করছে সরকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১
  • ১৬৪ Time View

দেশের এক সময়ের সরকার স্লোগান তুলেছিলো বেশি বেশি আলু খান ভাতের উপর চাপ কমান। একটা সময় ভাতের বিপরীতে আলুকে ভাবানোর চিন্তা করা হয়েছিলো। দেশে আলু চাষী বেড়েছে। নিজেদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় এবার বিদেশে আলু রপ্তানির কথা ভাবছে সরকার। কোন দেশে কার মাধ্যমে রফতানি করা যায় তা নিয়ে চলছে চিন্তাভাবনা। এ জন্য সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছে বলে জানা গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা যায়, এরইমধ্যে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একাধিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। পজেটিভ আলোচনায় এগিয়েছে অনেক দূর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর আলুর চাহিদা ৮০ লাখ মেট্রিক টন বা তার কমবেশি। গতবছর দেশে এক কোটি ১৩ লাখ টান আলু উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এই মুহূর্তে দেশের কমবেশি ৩৮০টি কোল্ড স্টোরেজে মজুতকৃত আলুর পরিমাণ ১০-১২ লাখ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আশা করছে এ বছরও দেশে এক কোটি মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হবে। এমন অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজগুলোও মজুতকৃত আলু বাইরে আনতে পারছে না লোকসানের ভয়ে। জানা গেছে, পাওনা পরিশোধের ভয়ে কৃষকরাও কোল্ড স্টোরেজের কাছে যাচ্ছে না। কারণ প্রতি কেজি আলুর উৎপাদনসহ কোল্ড স্টোরেজে রাখার খরচ ১৪-১৫ টাকা। নতুন আলু মাঠ থেকে ওঠার আগেই কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা কৃষকদের তাগাদা দেন আলু নিয়ে যাওয়ার জন্য।

সূত্র জানায়, এক সময় বাংলাদেশ থেকে প্রচুর আলু বিদেশে রফতানি হতো। বিশেষ করে রাশিয়া প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি করলেও এখন তা বন্ধ রেখেছে। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও বাংলাদেশি আলুর চাহিদা রয়েছে। এসব দেশসহ আরও কিছু দেশের আলুর চাহিদার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট উইংগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, প্রতিবছর প্রচুর আলু নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমন অবস্থায় দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত আলু যেন রফতানি করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ বার বার নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, এবার সরকার চায়, আলু চাষে কৃষকরা যেন আগ্রহ না হারায় ও ব্যবসায়ীরা যেন লোকসানে না পড়েন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

টঙ্গীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

বিদেশে আলু রপ্তানির চিন্তা করছে সরকার

Update Time : ০৫:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১

দেশের এক সময়ের সরকার স্লোগান তুলেছিলো বেশি বেশি আলু খান ভাতের উপর চাপ কমান। একটা সময় ভাতের বিপরীতে আলুকে ভাবানোর চিন্তা করা হয়েছিলো। দেশে আলু চাষী বেড়েছে। নিজেদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় এবার বিদেশে আলু রপ্তানির কথা ভাবছে সরকার। কোন দেশে কার মাধ্যমে রফতানি করা যায় তা নিয়ে চলছে চিন্তাভাবনা। এ জন্য সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করছে বলে জানা গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা যায়, এরইমধ্যে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একাধিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। পজেটিভ আলোচনায় এগিয়েছে অনেক দূর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর আলুর চাহিদা ৮০ লাখ মেট্রিক টন বা তার কমবেশি। গতবছর দেশে এক কোটি ১৩ লাখ টান আলু উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এই মুহূর্তে দেশের কমবেশি ৩৮০টি কোল্ড স্টোরেজে মজুতকৃত আলুর পরিমাণ ১০-১২ লাখ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আশা করছে এ বছরও দেশে এক কোটি মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হবে। এমন অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজগুলোও মজুতকৃত আলু বাইরে আনতে পারছে না লোকসানের ভয়ে। জানা গেছে, পাওনা পরিশোধের ভয়ে কৃষকরাও কোল্ড স্টোরেজের কাছে যাচ্ছে না। কারণ প্রতি কেজি আলুর উৎপাদনসহ কোল্ড স্টোরেজে রাখার খরচ ১৪-১৫ টাকা। নতুন আলু মাঠ থেকে ওঠার আগেই কোল্ড স্টোরেজের মালিকরা কৃষকদের তাগাদা দেন আলু নিয়ে যাওয়ার জন্য।

সূত্র জানায়, এক সময় বাংলাদেশ থেকে প্রচুর আলু বিদেশে রফতানি হতো। বিশেষ করে রাশিয়া প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি করলেও এখন তা বন্ধ রেখেছে। এর বাইরে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও বাংলাদেশি আলুর চাহিদা রয়েছে। এসব দেশসহ আরও কিছু দেশের আলুর চাহিদার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট উইংগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, প্রতিবছর প্রচুর আলু নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমন অবস্থায় দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত আলু যেন রফতানি করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ বার বার নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, এবার সরকার চায়, আলু চাষে কৃষকরা যেন আগ্রহ না হারায় ও ব্যবসায়ীরা যেন লোকসানে না পড়েন।