মানুষ প্রতিনিয়ত ছুটে চলে তার গন্তব্যে। না না স্বপ্ন, না না আকাঙ্ক্ষা নিয়েই এই ছুটে চলা। কিন্তু এই গতি হঠাৎ থামিয়ে দেয় এক আকস্মিক দুর্ঘটনায়। ভেঙ্গে চুরমার হয় স্বপ্ন। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় একটি পরিবার। স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে পৌঁছাতে আমরা সব সময় ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ব্যবহার করে থাকি। এতে করে আমরা সময় বাঁচিয়ে দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারি। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি অটোরিকশা বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের কাজেও ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তির এই সময়ে অটোরিকশা আমাদের জন্য খুবই উপকারী একটি বাহন। তবে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতির দিক রয়েছে, যে সব ক্ষতি অপূরণীয়। বর্তমানে রাস্তায় প্রচুর অটোরিকশা চলাচল করে। বিশেষ করে শিল্প ও নগর এলাকায় বেশি মানুষ চলাচলের কারণে অটো রিক্সার চাহিদাও বেড়েছে। ঠিক তেমনি এ সকল রাস্তায় দুর্ঘটনার পরিমাণও কম নয় বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে মানুষ গুরুতর আহত এমনকি মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। অদক্ষ চালক, ট্রাফিক নিয়ম মেনে না চলা ও এসব নিয়মতান্ত্রিকতা না বুঝার ফলে এ সকল দুর্ঘটনা ঘটছে।
গাজীপুর একটি শিল্প অঞ্চল হওয়ায় সারা দেশের মানুষ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বসবাস করে। পরিবারের শিশু ছাড়া প্রায় সবাই কোন না কোন কোম্পানিতে কর্মরত আছে। পরিবারের পুরুষকর্তা কোম্পানিতে শিফটিং ডিউটি থাকার ফলে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য রাস্তায় অটো রিক্সা চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দেখা যায় তারা হঠাৎ করেই কোন মহাজন এর নিকট থেকে অটো রিক্সা ভাড়া নিয়ে চালানো শুরু করে। এসব ড্রাইভারদের নেই কোন অভিজ্ঞতা, নেই কোন প্রশিক্ষণ, নেই কোন ট্রাফিক ধারণা। তবুও দাপটের সাথে রাস্তায় অটো রিক্সা চালাতে থাকে। এসব অটোরিক্সার গতিও তুলনামূলক অনেক বেশি। ফলে হরহামেশা ছোট বড় বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে যাত্রীরা আহতসহ মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে সারা জীবন দুর্বিষহ কষ্টে জীবন যাপন করে। “একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।”
আরেকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এইসব অটোরিকশা গুলো আঞ্চলিক রাস্তা থেকে বর্তমানে হাইওয়েতে বিনা বাধায় চলাচল শুরু করেছে। যদিও মহাসড়ক গুলোতে অটোরিকশা চালানো নিষিদ্ধ তবুও প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে ট্রাফিক আইন লংঘন করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ অটোরিকশা নিয়মিত চলাচল করছে। প্রশাসন যেন দেখেও দেখেনা। এই অটো রিক্সা গুলো হাইওয়েতে উল্টো পথে (রং সাইডে) সবচেয়ে বেশি চলে। ফলে দ্রুতগামী যানবাহনের সাথে ধাক্কা লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পতিত হয়, অকালে ঝরে যায় বহু প্রাণ। যখন দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায় তখন সেখানে অল্প কয়েক দিনের জন্য সর্তকতা অবস্থা দেখা গেলেও কিছুদিন পর চোখে ভেসে ওঠে আবার একই চিত্র। আমি বুঝতে পারিনা হাইওয়ে পুলিশের কাজ কি? মহাসড়কে এ সকল ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চলা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন তারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে কিন্তু সেই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এত বড় বড় রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার করে কি লাভ যদি আমরা সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার না করতে পারি!
প্রতিকার হিসাবে যে সকল পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। যেমন: হাইওয়ে বা মহাসড়ক থেকে স্থায়ীভাবে অটো রিক্সার চলাচলের নিষিদ্ধ করতে হবে। অটোরিকশা গুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে। এসব রিক্সার ফিটনেস চেক করে ত্রুটিপূর্ণ রিকশাকে চলাচলে নিষিদ্ধ করতে হবে। অটো রিক্সার ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
যদি অটো রিক্সা গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে। আজকে আমি বা আমার পরিবার কাল আপনি বা আপনার পরিবার। কেউই রেহায় পাবে না।
প্রকৌশলী মো: নুরুল আলম
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
জ্ঞানের ভুবন পাবলিক স্কুল
প্রকৌশলী মো: নুরুল আলম- অতিথি লেখক ,দৈনিক প্রান্তিক। 






















