Dhaka ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়: রিজভী

ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জীবনভর অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যেকোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা, গান ও চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী মানুষকে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

রিজভী আরও বলেন, নজরুল ছিলেন যুগান্তরের কবি। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর দ্রোহী চেতনা আজও মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের শক্তি জোগায়।

অর্ধশতাব্দী পরও প্রাসঙ্গিক নজরুল

দ্রোহ, প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেই কঠিন জীবন তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং জীবনসংগ্রামই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করে।

কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গজল, হামদ-নাত ও শ্যামাসংগীত—সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ ছিল। অল্প সময়ের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন।

নজরুলের সৃষ্টিশীলতার প্রধান সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে দিয়েছেন দ্রোহ, সাম্য, মানবমুক্তি ও অসাম্প্রদায়িকতার এক শক্তিশালী দর্শন। তাঁর কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের উচ্চারণ আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সেই অমর উচ্চারণেই যেন ধ্বনিত হয়—

‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী,
আর হাতে রণ-তূর্য।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল কালিয়াকৈর, পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে এমপি মজিবুর রহমান

দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়: রিজভী

Update Time : ০৪:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জীবনভর অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যেকোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেকোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা, গান ও চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী মানুষকে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

রিজভী আরও বলেন, নজরুল ছিলেন যুগান্তরের কবি। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর দ্রোহী চেতনা আজও মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের শক্তি জোগায়।

অর্ধশতাব্দী পরও প্রাসঙ্গিক নজরুল

দ্রোহ, প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেই কঠিন জীবন তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং জীবনসংগ্রামই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করে।

কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গজল, হামদ-নাত ও শ্যামাসংগীত—সাহিত্যের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ ছিল। অল্প সময়ের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন।

নজরুলের সৃষ্টিশীলতার প্রধান সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। এই স্বল্প সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে দিয়েছেন দ্রোহ, সাম্য, মানবমুক্তি ও অসাম্প্রদায়িকতার এক শক্তিশালী দর্শন। তাঁর কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের উচ্চারণ আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সেই অমর উচ্চারণেই যেন ধ্বনিত হয়—

‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী,
আর হাতে রণ-তূর্য।’