পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ও তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁই-এর সঙ্গে ঘটে যাওয়া কথিত হামলা ও হয়রানির ঘটনায় বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলের সামনে তাঁদের লক্ষ্য করে কটূক্তি, গালাগালি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়েও গড়ায় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চলাচলের সময় কয়েকজন ব্যক্তি অভিনেতা মোশাররফ করিমকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য ও রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে। যদিও ঘটনাটি নিয়ে এখনো ভারতের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা আদর্শগত বিরোধের কারণে কোনো শিল্পীকে লক্ষ্যবস্তু করা গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির জগতকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ক্ষেত্র বানানো হলে তা কেবল ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। শিল্পীরা সমাজের বিবেক ও সৃজনশীলতার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল বলেছে, যে কোনো রাজনৈতিক মতভেদ বা বিরোধের নামে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী কিংবা সাধারণ নাগরিকের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দুই বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির স্বার্থে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপদ পরিবেশে কাজ ও চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা-দৈনিক প্রান্তিক। 















