Dhaka ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া বৈঠক: সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় তিন দলিল স্বাক্ষর

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দলিল।

দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার লক্ষ্যে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেন বাংলাদেশের ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সকাল ৯টার দিকে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাদের স্বাগত জানান।

এ সময় লালগালিচা সংবর্ধনার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন। পরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তারেক রহমান পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতা প্রদান, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের—বিশেষ করে আম, ফলমূল ও শাকসবজির—মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আবেদন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকট এবং জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের সড়কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরটির মূল লক্ষ্য হিসেবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল কালিয়াকৈর, পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে এমপি মজিবুর রহমান

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া বৈঠক: সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় তিন দলিল স্বাক্ষর

Update Time : ০৮:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত দলিল।

দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার লক্ষ্যে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেন বাংলাদেশের ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সকাল ৯টার দিকে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাদের স্বাগত জানান।

এ সময় লালগালিচা সংবর্ধনার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন। পরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তারেক রহমান পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতা প্রদান, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের—বিশেষ করে আম, ফলমূল ও শাকসবজির—মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আবেদন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকট এবং জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের সড়কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরটির মূল লক্ষ্য হিসেবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।