টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় নিহতদের ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দায়। এছাড়া আরও দুজনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়।
সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সারতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রবাটি (ডেবরা) থেকে চিকলা বলাক্ষেত্র পর্যন্ত এলাকায়। দুইজনের বাড়ি তানোর উপজেলায়।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতোয়ার রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি যমুনা সেতু পূর্ব সারতৈল এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও ১০ জন।
আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হতাহতরা সবাই শ্রমিক শ্রেণির যাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ট্রাকটিতে উত্তরবঙ্গগামী শ্রমিক শ্রেণির যাত্রীরা ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তারা বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু ভোরের অন্ধকারেই তাদের যাত্রা থেমে যায় মহাসড়কের পাশে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি (ডেবরা) থেকে চিকলা বলাক্ষেত্র এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। অপর দুইজনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতোয়ার রহমান জানান, ঢাকাগামী রডবোঝাই ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। যমুনা সেতু পূর্ব মহাসড়কের সারতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের ভেতরে থাকা যাত্রীরা চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবার ঈদ এলেই দেশের মহাসড়কগুলো যেন পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনিরাপদ যানবাহন, ক্লান্ত চালক ও দুর্বল তদারকির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। অথচ প্রাণ হারাচ্ছেন মূলত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ—যাদের জীবনসংগ্রামই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা।
নওগাঁর গ্রামগুলোতে এখন ঈদের প্রস্তুতির বদলে চলছে শোকের মাতম। যে ঘরে নতুন কাপড় পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে পৌঁছাচ্ছে লাশ। শিশুদের অপেক্ষা থেমে গেছে নিথর কান্নায়। একেকটি মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতেরও মৃত্যু।
জহিরুল ইসলাম - উপসম্পাদক, দৈনিক প্রান্তিক” 




















