Dhaka ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়হান উদ্দিন খান : শেকড় ছুঁয়ে উঠে আসা এক আলোকিত অভিযাত্রী

গাজীপুর সদরের পিরুজালী গ্রাম। সবুজে মোড়া শান্ত এক জনপদ, যেখানে ভোরের শিশির এখনো ঘাসের ডগায় স্বপ্ন হয়ে ঝুলে থাকে। সেই গ্রামের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন রায়হান উদ্দিন খান— যিনি আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে নিজের জনপদকে গৌরবান্বিত করেছেন।
শৈশবের প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল পিরুজালী আমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গ্রামের সাধারণ পরিবেশ, শিক্ষক-পিতার স্নেহময় শাসন আর শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের মধ্য দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর পিতা ওয়াজেদ আলী খান একজন আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক । শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল যার জীবনের ব্রত। সেই আলোকিত মানুষটির আদর্শ ও মূল্যবোধই সন্তানের জীবনগঠনে হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও আত্মনিবেদিত। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছেও তিনি ছিলেন একজন বিনয়ী এবং সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ। দেশের অন্যতম স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠ থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষা, চিন্তার বিস্তার ও আত্মপ্রত্যয় তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়।
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের “পার্সোনাল-১” শাখায় অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর অবস্থান নিঃসন্দেহে পিরুজালীর মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার কারণে তিনি সহকর্মীদের মাঝেও সম্মানিত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কঠোর বাস্তবতার মাঝেও তিনি বহন করে চলেছেন একজন গ্রামীণ মানুষের সরলতা ও বিনয়। উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েও নিজের শেকড়কে স্মরণে রাখা মানুষদের সংখ্যা আজ খুব বেশি নয়; রায়হান উদ্দিন খান তাঁদেরই একজন।
একটি গ্রামের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কৃতী সন্তানরা। কারণ তাঁদের অর্জনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। পিরুজালীর কোনো কিশোর যখন শুনে— এই গ্রামেরই একজন মানুষ দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তখন তার বুকেও জন্ম নেয় নতুন আশা। সে বুঝতে শেখে, মফস্বলের মাটিও মানুষকে জাতীয় পর্যায়ের উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
রায়হান উদ্দিন খানের জীবন তাই শুধু একজন কর্মকর্তার সাফল্যের গল্প নয়; এটি শিক্ষার শক্তি, পারিবারিক আদর্শ এবং নিরলস অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
তাঁর এই গৌরবময় অর্জনে দৈনিক ‘প্রান্তিক’ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। প্রান্তিক পরিবার বিশ্বাস করে, তাঁর সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

রায়হান উদ্দিন খান : শেকড় ছুঁয়ে উঠে আসা এক আলোকিত অভিযাত্রী

Update Time : ০৭:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

গাজীপুর সদরের পিরুজালী গ্রাম। সবুজে মোড়া শান্ত এক জনপদ, যেখানে ভোরের শিশির এখনো ঘাসের ডগায় স্বপ্ন হয়ে ঝুলে থাকে। সেই গ্রামের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন রায়হান উদ্দিন খান— যিনি আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে নিজের জনপদকে গৌরবান্বিত করেছেন।
শৈশবের প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল পিরুজালী আমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গ্রামের সাধারণ পরিবেশ, শিক্ষক-পিতার স্নেহময় শাসন আর শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের মধ্য দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর পিতা ওয়াজেদ আলী খান একজন আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক । শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল যার জীবনের ব্রত। সেই আলোকিত মানুষটির আদর্শ ও মূল্যবোধই সন্তানের জীবনগঠনে হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও আত্মনিবেদিত। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছেও তিনি ছিলেন একজন বিনয়ী এবং সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ। দেশের অন্যতম স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠ থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষা, চিন্তার বিস্তার ও আত্মপ্রত্যয় তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়।
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের “পার্সোনাল-১” শাখায় অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর অবস্থান নিঃসন্দেহে পিরুজালীর মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।
দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার কারণে তিনি সহকর্মীদের মাঝেও সম্মানিত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কঠোর বাস্তবতার মাঝেও তিনি বহন করে চলেছেন একজন গ্রামীণ মানুষের সরলতা ও বিনয়। উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েও নিজের শেকড়কে স্মরণে রাখা মানুষদের সংখ্যা আজ খুব বেশি নয়; রায়হান উদ্দিন খান তাঁদেরই একজন।
একটি গ্রামের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কৃতী সন্তানরা। কারণ তাঁদের অর্জনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। পিরুজালীর কোনো কিশোর যখন শুনে— এই গ্রামেরই একজন মানুষ দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তখন তার বুকেও জন্ম নেয় নতুন আশা। সে বুঝতে শেখে, মফস্বলের মাটিও মানুষকে জাতীয় পর্যায়ের উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
রায়হান উদ্দিন খানের জীবন তাই শুধু একজন কর্মকর্তার সাফল্যের গল্প নয়; এটি শিক্ষার শক্তি, পারিবারিক আদর্শ এবং নিরলস অধ্যবসায়ের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
তাঁর এই গৌরবময় অর্জনে দৈনিক ‘প্রান্তিক’ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। প্রান্তিক পরিবার বিশ্বাস করে, তাঁর সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।