নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ জন্য সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে।
রোববার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে। সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, জুলাই সনদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে থাকা কিছু বিষয়ও সংস্কার কার্যক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘একপাক্ষিকভাবে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।’ এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময়ে অংশ নিয়েছে কয়েকটি দল
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে রোববার জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং কয়েকটি দল মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রথম বৈঠকে জুলাই সনদকে ভিত্তি করে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক পদ্ধতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও বলেছেন, সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। এপ্রিলে সংসদে তিনি বলেছিলেন, সংবিধানকে উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
এ ছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদীয় ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন করতে হবে।
অর্থবছরেও পরিবর্তন
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুবিধার্থে অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের উদ্যোগের কথাও জানান। তবে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ। পরিবর্তনটি ধাপে কার্যকর হবে; ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তী বা রূপান্তরকালীন সময় হিসেবে বিবেচনা করে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়কাল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের যুক্তি হলো, বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষা শুরুর আগেই উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করার পরিকল্পনা
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা এখনো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে সুযোগ পাবে।
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আলোচনা শেষ করে পরবর্তী সময়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে এর আগেও সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে যেভাবে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে সনদের আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনার কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।
এখন সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিষয়বস্তু—এই তিনটি বিষয়ই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা 



















