Dhaka ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক নতুন আখ্যানের মুখোমুখি বাংলাদেশ: বঙ্গভবনের নির্বাচিত অধিপতি মির্জা ফখরুল

মোঃ আলফাজ উদ্দিন

সম্পাদক –দৈনিক প্রান্তিক।

ইতিহাসের চাকা ঘোরে, কিন্তু মাঝে মাঝে সে এমন এক মোড় নেয় যা ভেতরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে বাইরে এনে দাঁড় করায়। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের জড়তা ভেঙে আজ ২০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন সাক্ষী হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের । সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের লড়াইয়ে ২৫৫ ভোট পেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

আমাদের এই ভূখণ্ডে ক্ষমতা চিরকালই এক রহস্যময় মায়াবিনী। এখানে ক্ষমতার হাতবদল মানেই ছিল পর্দার পেছনের গোপন সমঝোতা কিংবা একতরফা কোনো তামাশা। ছফা বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “যে দেশে বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার উচ্ছিষ্টে বুঁদ হয়ে থাকে, সে দেশে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এক পাক্ষিক আলোকপাত।” কিন্তু আজকের দিনটি ভিন্ন। ৩৪৩ জন সংসদ সদস্যের ব্যালটের মাধ্যমে যে রায় এসেছে, তা কেবল একজন ব্যক্তির জয় নয়; বরং তা এই পললভূমির দীর্ঘদিনের অবদমিত রাজনৈতিক আকাঙ্খার এক বহিঃপ্রকাশ।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন ব্যালট বাক্সে প্রথম ভোটটি ফেললেন, তখনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে এই রাষ্ট্র আর পুরোনো চেনা ছকে হাঁটছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন যখন বিজয়ী নাম ঘোষণা করলেন, তখন তা কেবল এক টুকরো কাগজের ফলাফল ছিল না; তা ছিল এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দলিল।

মির্জা ফখরুল এমন এক সময়ে এই সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক গভীর রূপান্তর চলছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে বেইজিংয়ের চিলতে কূটনৈতিক মহল—সবাই তাঁকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন। কিন্তু বঙ্গভবনের রাজকীয় ঝাড়বাতির নিচে বসে তিনি কি পারবেন এই ক্ষয়ে যাওয়া ব্যবস্থার ভেতরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণ সঞ্চার করতে? নাকি রাষ্ট্রপতির এই পদটি শেষ পর্যন্ত এক আলংকারিক জাঁকজমক হিসেবেই থেকে যাবে?

আমাদের সমাজ কাঠামোর যে গভীর ব্যাধি, তা কেবল এক ব্যক্তি বা এক নির্বাচনে সারে না। তবে আজকের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছে—জনগণের প্রতিনিধির ইচ্ছার মূল্য এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা এখন কোন পথে হাঁটেন, তাঁর মস্তিস্ক ও মেরুদণ্ড কতখানি অবিচল থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই ভূখণ্ডের আগামী দিনের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলশীর আটতলা ভবনে পুলিশের অভিযান: ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস

এক নতুন আখ্যানের মুখোমুখি বাংলাদেশ: বঙ্গভবনের নির্বাচিত অধিপতি মির্জা ফখরুল

Update Time : ১২:১৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ আলফাজ উদ্দিন

সম্পাদক –দৈনিক প্রান্তিক।

ইতিহাসের চাকা ঘোরে, কিন্তু মাঝে মাঝে সে এমন এক মোড় নেয় যা ভেতরের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে বাইরে এনে দাঁড় করায়। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের জড়তা ভেঙে আজ ২০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন সাক্ষী হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাসের । সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের লড়াইয়ে ২৫৫ ভোট পেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

আমাদের এই ভূখণ্ডে ক্ষমতা চিরকালই এক রহস্যময় মায়াবিনী। এখানে ক্ষমতার হাতবদল মানেই ছিল পর্দার পেছনের গোপন সমঝোতা কিংবা একতরফা কোনো তামাশা। ছফা বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন, “যে দেশে বুদ্ধিজীবীরা ক্ষমতার উচ্ছিষ্টে বুঁদ হয়ে থাকে, সে দেশে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এক পাক্ষিক আলোকপাত।” কিন্তু আজকের দিনটি ভিন্ন। ৩৪৩ জন সংসদ সদস্যের ব্যালটের মাধ্যমে যে রায় এসেছে, তা কেবল একজন ব্যক্তির জয় নয়; বরং তা এই পললভূমির দীর্ঘদিনের অবদমিত রাজনৈতিক আকাঙ্খার এক বহিঃপ্রকাশ।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন ব্যালট বাক্সে প্রথম ভোটটি ফেললেন, তখনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যে এই রাষ্ট্র আর পুরোনো চেনা ছকে হাঁটছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন যখন বিজয়ী নাম ঘোষণা করলেন, তখন তা কেবল এক টুকরো কাগজের ফলাফল ছিল না; তা ছিল এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দলিল।

মির্জা ফখরুল এমন এক সময়ে এই সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক গভীর রূপান্তর চলছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে বেইজিংয়ের চিলতে কূটনৈতিক মহল—সবাই তাঁকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন। কিন্তু বঙ্গভবনের রাজকীয় ঝাড়বাতির নিচে বসে তিনি কি পারবেন এই ক্ষয়ে যাওয়া ব্যবস্থার ভেতরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণ সঞ্চার করতে? নাকি রাষ্ট্রপতির এই পদটি শেষ পর্যন্ত এক আলংকারিক জাঁকজমক হিসেবেই থেকে যাবে?

আমাদের সমাজ কাঠামোর যে গভীর ব্যাধি, তা কেবল এক ব্যক্তি বা এক নির্বাচনে সারে না। তবে আজকের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছে—জনগণের প্রতিনিধির ইচ্ছার মূল্য এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা এখন কোন পথে হাঁটেন, তাঁর মস্তিস্ক ও মেরুদণ্ড কতখানি অবিচল থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই ভূখণ্ডের আগামী দিনের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য।