Dhaka ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের জনসভা

৫ আগস্ট ২০২৬ |

২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি তখনো মানুষের মনে জ্বলজ্বল করছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সময়ের শোক, ক্ষোভ, প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেই স্মৃতিকেই ধারণ করে ৫ আগস্টের বিকেলে গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়ে আবারও জমায়েত হলো মানুষ।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, সেই সময় সংঘটিত সহিংসতার বিচার, গণরায়ের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ১১ দলীয় ঐক্য বুধবার (৫ আগস্ট) গাজীপুর মহানগরের শিববাড়ী মোড়ে আয়োজন করে বিশাল জনসভা ও র্যালি।

আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের কাছে প্রতীকী অর্থে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে দীর্ঘ আন্দোলন, প্রাণহানি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। দুই বছর পর সেই দিনটিকে ঘিরে গাজীপুরের রাজপথে ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি এবং নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা।

বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল, তখন শিববাড়ী মোড়ের চারপাশে মানুষের ঢল। গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকা, থানা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কারও হাতে ছিল জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ব্যানার, কারও হাতে ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড।

শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, অনেকের কাছে এটি ছিল স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যারা গাজীপুরের রাজপথে ছিলেন, তারা আবারও ফিরে এসেছিলেন সেই জায়গায়। মাওনা চৌরাস্তা, হোতাপাড়া, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, শিববাড়ী মোড় ও শিমুলতলীর মতো স্থানগুলো তখন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জুলাই আন্দোলনের সময় বিশেষ ভূমিকা রাখে। সড়কে অবস্থান, প্রতিবাদ মিছিল এবং আন্দোলনকারীদের পাশে সাধারণ মানুষের মানবিক সহযোগিতা এই জেলার আন্দোলনের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

শিববাড়ী মোড়ের আজকের সমাবেশে সেই ইতিহাসই যেন আবার ফিরে আসে। জনতার ভিড়ে কেউ স্মরণ করছিলেন হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে, কেউ বলছিলেন আহতদের কথা, আবার কেউ প্রত্যাশা জানাচ্ছিলেন—জুলাইয়ের আত্মত্যাগ যেন কেবল রাজনৈতিক পালাবদলের স্মৃতি হয়ে না থাকে; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

জনসভায় গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ন্যায়বিচার, জনগণের অধিকার এবং একটি কার্যকর রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।

সমাবেশে গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত থাকবে। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. জাহাঙ্গীর আলম রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোকে জনগণের কল্যাণে পুনর্গঠন করতে হবে।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন, বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও জনসম্পৃক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তাদের বক্তব্যের বাইরে জনতার মধ্যেও ছিল এক ধরনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তরুণদের চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, শ্রমজীবী মানুষের কথায় ছিল নিরাপদ জীবন ও ন্যায্যতার আকাঙ্ক্ষা, আর প্রবীণদের স্মৃতিতে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা।

সমাবেশ শেষে শিববাড়ী মোড় থেকে একটি বিশাল র্যালি বের হয়। জয়দেবপুর সড়কসহ মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি। মানুষের কণ্ঠে তখন ফিরে আসে জুলাইয়ের স্মৃতি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশা।

দুই বছর পরও জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভিন্নতা থাকলেও, এটি যে দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে—তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়ের ৫ আগস্টের এই সমাবেশ তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি নয়; এটি একটি সময়ের দলিল। যেখানে অতীতের রক্তাক্ত স্মৃতি, বর্তমানের রাজনৈতিক দাবি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন একই ফ্রেমে ধরা পড়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯০ দশকের নস্টালজিয়া বনাম জলবায়ু সংকট: এআই ছবির আড়ালে পুড়ছে পৃথিবী

‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের জনসভা

Update Time : ০৪:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট ২০২৬ |

২০২৪ সালের জুলাইয়ের রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি তখনো মানুষের মনে জ্বলজ্বল করছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সময়ের শোক, ক্ষোভ, প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেই স্মৃতিকেই ধারণ করে ৫ আগস্টের বিকেলে গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়ে আবারও জমায়েত হলো মানুষ।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, সেই সময় সংঘটিত সহিংসতার বিচার, গণরায়ের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ১১ দলীয় ঐক্য বুধবার (৫ আগস্ট) গাজীপুর মহানগরের শিববাড়ী মোড়ে আয়োজন করে বিশাল জনসভা ও র্যালি।

আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের কাছে প্রতীকী অর্থে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে দীর্ঘ আন্দোলন, প্রাণহানি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। দুই বছর পর সেই দিনটিকে ঘিরে গাজীপুরের রাজপথে ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি এবং নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা।

বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল, তখন শিববাড়ী মোড়ের চারপাশে মানুষের ঢল। গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকা, থানা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কারও হাতে ছিল জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ব্যানার, কারও হাতে ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড।

শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, অনেকের কাছে এটি ছিল স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যারা গাজীপুরের রাজপথে ছিলেন, তারা আবারও ফিরে এসেছিলেন সেই জায়গায়। মাওনা চৌরাস্তা, হোতাপাড়া, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, শিববাড়ী মোড় ও শিমুলতলীর মতো স্থানগুলো তখন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জুলাই আন্দোলনের সময় বিশেষ ভূমিকা রাখে। সড়কে অবস্থান, প্রতিবাদ মিছিল এবং আন্দোলনকারীদের পাশে সাধারণ মানুষের মানবিক সহযোগিতা এই জেলার আন্দোলনের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

শিববাড়ী মোড়ের আজকের সমাবেশে সেই ইতিহাসই যেন আবার ফিরে আসে। জনতার ভিড়ে কেউ স্মরণ করছিলেন হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে, কেউ বলছিলেন আহতদের কথা, আবার কেউ প্রত্যাশা জানাচ্ছিলেন—জুলাইয়ের আত্মত্যাগ যেন কেবল রাজনৈতিক পালাবদলের স্মৃতি হয়ে না থাকে; বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

জনসভায় গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিচার এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ন্যায়বিচার, জনগণের অধিকার এবং একটি কার্যকর রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।

সমাবেশে গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত থাকবে। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. জাহাঙ্গীর আলম রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোকে জনগণের কল্যাণে পুনর্গঠন করতে হবে।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন, বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও জনসম্পৃক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তাদের বক্তব্যের বাইরে জনতার মধ্যেও ছিল এক ধরনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তরুণদের চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, শ্রমজীবী মানুষের কথায় ছিল নিরাপদ জীবন ও ন্যায্যতার আকাঙ্ক্ষা, আর প্রবীণদের স্মৃতিতে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা।

সমাবেশ শেষে শিববাড়ী মোড় থেকে একটি বিশাল র্যালি বের হয়। জয়দেবপুর সড়কসহ মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি। মানুষের কণ্ঠে তখন ফিরে আসে জুলাইয়ের স্মৃতি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশা।

দুই বছর পরও জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভিন্নতা থাকলেও, এটি যে দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে—তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়ের ৫ আগস্টের এই সমাবেশ তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি নয়; এটি একটি সময়ের দলিল। যেখানে অতীতের রক্তাক্ত স্মৃতি, বর্তমানের রাজনৈতিক দাবি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন একই ফ্রেমে ধরা পড়েছে।