প্রান্তিক প্রতিবেদনঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর রাজধানী থেকে গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় রোববার তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসিবুর রশীদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। পরে তাকে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে হাজির করা হয়। আদালতে হাজিরের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোড এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রধান আসামিদের একজন হিসেবে সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও সাজা ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরিবর্তে প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদের মৃত্যু পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী ঘটনায় পরিণত হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়। তদন্ত শেষে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে, আন্দোলন দমনে পরিকল্পিতভাবে বলপ্রয়োগ, হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর থেকেই সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ আত্মগোপনে চলে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানের পর অবশেষে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Reporter Name 
















