জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এই মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের জয়লাভের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় দেশ সাইপ্রাস। এর আগে ফিলিস্তিন এই পদের জন্য লড়বার কথা ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে তারা বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। আগামীকাল সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র সদস্য রাষ্ট্রগুলো ড. খলিলুর রহমানকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে রাশিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স এবং তুরস্কের মতো বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে ঢাকা।
নির্বাচনে জয়ী হলে ড. খলিলুর রহমান একই সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী এতে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে তিনি একই সাথে দুটি দায়িত্ব সামলাবেন, নাকি শুধু জাতিসংঘেই মনোযোগ দেবেন—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর নির্ভর করছে।
বাংলাদেশ যদি এই নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে এটি হবে বিশ্বমঞ্চে দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও সেই গৌরব অর্জনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।
বিশেষ প্রতিনিধি -দৈনিক প্রান্তিক 

















