প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুসংহত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে গঠিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এখন জনগণের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া যে আত্মনির্ভরশীল ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনেই এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব খাত পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সমাজে মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও মানবিকতায় গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে অনেকেই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের মাধ্যমে চিনতো। এটি আমার জন্য গর্বের বিষয়।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের সফলতা নিশ্চিত করতে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো হয়েছিল, উন্নয়ন ও ইশতেহার বাস্তবায়নেও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, নতুন শিল্পখাত গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জহিরুল ইসলাম 
















