Dhaka ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল আড়িয়াডাঙ্গী, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আড়িয়াডাঙ্গী এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিচারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জোরপূর্বক একটি দোকানে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানালে ভুক্তভোগীর মা আতাইকুলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রোববার (১৪ জুন) বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতা আড়িয়াডাঙ্গী বাজারে গিয়ে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাজারের আরও কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া তার কয়েকজন স্বজনের বাড়িঘর এবং একটি মাইক্রোবাসেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফাজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে নৈতিকতা, সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করাও জরুরি।

আড়িয়াডাঙ্গীর মানুষের এখন একটাই দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল আড়িয়াডাঙ্গী, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০৩:৪১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আড়িয়াডাঙ্গী এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিচারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জোরপূর্বক একটি দোকানে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানালে ভুক্তভোগীর মা আতাইকুলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রোববার (১৪ জুন) বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতা আড়িয়াডাঙ্গী বাজারে গিয়ে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাজারের আরও কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া তার কয়েকজন স্বজনের বাড়িঘর এবং একটি মাইক্রোবাসেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফাজুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে নৈতিকতা, সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করাও জরুরি।

আড়িয়াডাঙ্গীর মানুষের এখন একটাই দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।