Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত -উচ্ছসিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে হারিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈশ্বিক ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের এমন বিজয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের এ অভূতপূর্ব বিজয়ে উচ্ছসিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ফেরিভায়েইড ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে লিখেন “আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অনেক অভিনন্দন।এই অর্জন বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলিত করে। আমরা বিশ্বাস করি সে গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বহুপাক্ষিক, যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগাযোগ, সংলাপ এবং সহযোগিতা করবে। আমরা তার এই নতুন দায়িত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে মোট ১৯০টি ব্যালট কাস্ট বা ভোট পোল হয়। অত্যন্ত তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা পার করে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট।

অন্যদিকে, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের অভিজ্ঞ কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পান ৯১টি ভোট। ৮ ভোটের এ ব্যবধানে সাইপ্রাসকে পরাজিত করে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ পদের এ লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া ড. খলিলুর রহমান একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক। ১৯৭৯ সালের নিয়মিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ড. রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

জাতিসংঘের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের সম্পর্ক দীর্ঘ চার দশকের। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৫ বছর জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সচিবালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদে অনন্য দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এ দীর্ঘ কর্মজীবন এবং গ্রহণযোগ্যতাই বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ড. খলিলুর রহমান। এ ঐতিহাসিক বিজয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

২৫ বছর কারাভোগের পর মুক্তি, দেড় মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ ‘কাইল্লা পলাশ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত -উচ্ছসিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৩:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে হারিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈশ্বিক ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের এমন বিজয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের এ অভূতপূর্ব বিজয়ে উচ্ছসিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ফেরিভায়েইড ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে লিখেন “আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অনেক অভিনন্দন।এই অর্জন বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলিত করে। আমরা বিশ্বাস করি সে গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বহুপাক্ষিক, যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগাযোগ, সংলাপ এবং সহযোগিতা করবে। আমরা তার এই নতুন দায়িত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।”

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে মোট ১৯০টি ব্যালট কাস্ট বা ভোট পোল হয়। অত্যন্ত তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা পার করে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট।

অন্যদিকে, তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের অভিজ্ঞ কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পান ৯১টি ভোট। ৮ ভোটের এ ব্যবধানে সাইপ্রাসকে পরাজিত করে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ পদের এ লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া ড. খলিলুর রহমান একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক। ১৯৭৯ সালের নিয়মিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ড. রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

জাতিসংঘের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের সম্পর্ক দীর্ঘ চার দশকের। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৫ বছর জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সচিবালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদে অনন্য দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এ দীর্ঘ কর্মজীবন এবং গ্রহণযোগ্যতাই বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ড. খলিলুর রহমান। এ ঐতিহাসিক বিজয় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলো।