Dhaka ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের কাছে স্বপ্নভঙ্গ বাংলার বাঘিনীদের, সাফের ষষ্ঠ শিরোপা ভারতের ঘরে

স্পোর্টস ডেক্স- প্রান্তিকঃ

টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশের বাঘিনীরা। তবে স্বাগতিক ভারতের শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাস গড়া হলো না পিটার বাটলারের শিষ্যদের। শনিবার গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাত বছর পর পুনরায় সাফ নারী ফুটবলের মুকুট উদ্ধার করেছে ভারত।

ফলে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়ে। অন্যদিকে, ২০২২ ও ২০২৪ সালের টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিক ভারত। দ্রুতগতির আক্রমণ, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ ও সংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে বাংলাদেশ খুব একটা ছন্দে ফিরতে পারেনি। ভারতের আক্রমণভাগে একের পর এক চাপ সামলাতে গিয়ে বারবার বিপদে পড়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স।

তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের লড়াই কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ফিনিশিং দক্ষতায় এগিয়ে ছিল ভারতীয়রা।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের যাত্রাপথও ছিল দারুণ নাটকীয়। গ্রুপপর্বে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ইনজুরি সময়ে সাগরিকার জয়সূচক গোল দেশজুড়ে নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছিল।

ফাইনালের আগে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, “এটি হবে সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ, গ্রুপপর্বের ফলাফলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতার প্রশংসাও করেছিলেন।

অন্যদিকে ভারতীয় কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রীও ম্যাচটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই সফল হয় স্বাগতিকদের।

যদিও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উত্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে এই আসরে। এক সময় ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের অঞ্চলে এখন বাংলাদেশ অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২২ সালে ভারতকে ৩-০ এবং ২০২৪ সালে ৩-১ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

ফাইনালে পরাজয়ের বেদনা থাকলেও বাংলাদেশের তরুণ দলটি ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তাই দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এখন ভারত-বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

ভারতের কাছে স্বপ্নভঙ্গ বাংলার বাঘিনীদের, সাফের ষষ্ঠ শিরোপা ভারতের ঘরে

Update Time : ০৩:৩২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেক্স- প্রান্তিকঃ

টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশের বাঘিনীরা। তবে স্বাগতিক ভারতের শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাস গড়া হলো না পিটার বাটলারের শিষ্যদের। শনিবার গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাত বছর পর পুনরায় সাফ নারী ফুটবলের মুকুট উদ্ধার করেছে ভারত।

ফলে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়ে। অন্যদিকে, ২০২২ ও ২০২৪ সালের টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিক ভারত। দ্রুতগতির আক্রমণ, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ ও সংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে বাংলাদেশ খুব একটা ছন্দে ফিরতে পারেনি। ভারতের আক্রমণভাগে একের পর এক চাপ সামলাতে গিয়ে বারবার বিপদে পড়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স।

তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের লড়াই কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ফিনিশিং দক্ষতায় এগিয়ে ছিল ভারতীয়রা।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের যাত্রাপথও ছিল দারুণ নাটকীয়। গ্রুপপর্বে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ইনজুরি সময়ে সাগরিকার জয়সূচক গোল দেশজুড়ে নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছিল।

ফাইনালের আগে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, “এটি হবে সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ, গ্রুপপর্বের ফলাফলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতার প্রশংসাও করেছিলেন।

অন্যদিকে ভারতীয় কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রীও ম্যাচটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই সফল হয় স্বাগতিকদের।

যদিও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উত্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে এই আসরে। এক সময় ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের অঞ্চলে এখন বাংলাদেশ অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২২ সালে ভারতকে ৩-০ এবং ২০২৪ সালে ৩-১ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।

ফাইনালে পরাজয়ের বেদনা থাকলেও বাংলাদেশের তরুণ দলটি ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশার বার্তাই দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এখন ভারত-বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।