Dhaka ০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক

দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের এই ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

এ সময় তিনি নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনেনি, দেশের মানুষ স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদেরও পরাজিত করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুটি সময়েই দেশের মানুষের অংশগ্রহণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অপশক্তি পরাজিত হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে এবং দেশে আবারও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

শনিবার দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন।

বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নয়াপল্টন, কাকরাইল ও আশপাশের সড়কে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, ব্যানার ও ফেস্টুনে র‌্যালিটি বর্ণাঢ্য হয়ে ওঠে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন।

র‌্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির কেন্দ্রীয় আয়োজনের অংশ ছিল এই ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০১:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক প্রান্তিক

দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের এই ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।

তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

এ সময় তিনি নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনেনি, দেশের মানুষ স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদেরও পরাজিত করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুটি সময়েই দেশের মানুষের অংশগ্রহণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অপশক্তি পরাজিত হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে এবং দেশে আবারও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

শনিবার দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন।

বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নয়াপল্টন, কাকরাইল ও আশপাশের সড়কে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, ব্যানার ও ফেস্টুনে র‌্যালিটি বর্ণাঢ্য হয়ে ওঠে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন।

র‌্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির কেন্দ্রীয় আয়োজনের অংশ ছিল এই ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালি।