শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, গাজীপুরে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচির অর্থায়নে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘গাজীপুরে ফ্যাসিস্ট মেয়র (সাবেক) জাহাঙ্গীর আলমের অর্থায়নে ও তার গুন্ডাবাহিনী শ্রমিকসেজে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আর মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচির অর্থায়নে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা চালানো হচ্ছে।’
নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও জানান, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে এবং জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকেরা নতুন হারে মজুরি পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ‘আজকে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হবে এই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতারা একমত হয়েছে।’
এরপরও আন্দোলন অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এরপরও যদি কোনো আন্দোলন চলে, তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সেই আন্দোলন থামানো সরকারের দায়িত্ব। গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের অন্যতম দায়িত্ব শিল্পকারখানার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও শ্রমিক আন্দোলনের নামে ফ্যাসিস্টদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও আস্ফালন মোকাবিলা করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
গাজীপুরে সংঘর্ষ, অবরোধ ও প্রাণহানি
এদিকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে টানা আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৪ নভেম্বরও গাছা, বড়বাড়ী, চান্দনা চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়।
এনটিভির গাজীপুর প্রতিনিধি নাসির আহমেদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাছা ও বড়বাড়ী এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বাসন থানায় হামলার চেষ্টার ঘটনাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে শ্রমিকের মৃত্যুর পাশাপাশি মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকার তথ্য জানানো হয়।
মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও শ্রমিকদের দাবি
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য ডিসেম্বর থেকে সংশোধিত মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে মজুরি কত বাড়বে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার রয়টার্সকে জানান, নতুন কাঠামো অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে শ্রমিকেরা প্রথম বেতন পাবেন।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা। খাদ্য, বাসস্থান ও যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে শ্রমিকদের বক্তব্য।
কারা এই দুই নেতা?
এস এম মান্নান কচি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি। অন্যদিকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অর্থায়ন এবং সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ নভেম্বর ২০২৬ 










