ঢাকা, ১৫ জুন : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। তাই গণমাধ্যমকে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। তবে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করে তোলার দায়িত্বও গণমাধ্যমকেই নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য ও ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাকশালী শাসনামলে সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। ফলে দেশের গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা যদি শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণে একমত হতে না পারি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে না পারি, তাহলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।”
গণতন্ত্রের চর্চা ও ভিন্নমতের সহাবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি ও তার কাঠামোগত ভিত্তি আমরা এখনো যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। তবে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় আমি আশাবাদী হয়েছি যে, একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়ে সবার মধ্যে অনেকটাই মতৈক্য রয়েছে।”
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন ও অংশগ্রহণমূলক মিডিয়া কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা চাই। আমার মত প্রকাশের অধিকার যেমন থাকবে, তেমনি ভিন্নমতেরও সমান সুযোগ থাকতে হবে। মতের জবাব হবে মত দিয়ে, কোনোভাবেই কণ্ঠরোধ করে নয়।”
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, গণমাধ্যমকে গোষ্ঠীস্বার্থমুক্ত করে জাতীয় চরিত্রসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার প্রশ্নে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বক্তব্য দেন নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফ, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক সৈয়দ মেছবাহউদ্দিন আহমেদ, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
আলোচকরা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সম্পাদক-সাংবাদিকদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতার পাশাপাশি কার্যকর আত্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক- দৈনিক প্রান্তিক। 






















