বিজিবি-জনতার ঐক্যে পিছু হটল বিএসএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশইন’ অপচেষ্টা বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত বিএসএফ শূন্যরেখা থেকে জড়ো করা লোকজন সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের ওপারে নারী ও শিশুসহ প্রায় শতাধিক লোককে জড়ো করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি নেয় বিএসএফ। বিষয়টি আগে থেকেই জানতে পেরে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি। গত ৩১ মে রাতে সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। পরে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি বলেন, “যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হয়, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ব্যবহার করেই ফেরত পাঠানো সম্ভব। কিন্তু বিএসএফ তা না করে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবির অবস্থান ছিল আইনগতভাবে শক্ত ও নৈতিকভাবে বৈধ। সে কারণেই সদস্যদের মনোবল ছিল দৃঢ়। একইসঙ্গে সীমান্তবাসীর দেশপ্রেম ও সহযোগিতাও এ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া সীমান্তে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা মোকাবিলা কঠিন।
এদিকে সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিজিবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা সীমান্ত এলাকায় পাহারায় অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব আহমেদ বলেন, “বিজিবির পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সীমান্ত পাহারা দিয়েছি। এতে বিএসএফ বুঝতে পারে তাদের পরিকল্পনা সফল হবে না।”
আরেক বাসিন্দা শাকিল হোসেন বলেন, “রাতভর টর্চ হাতে বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে অবস্থান করেছি। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।”
স্থানীয়দের দাবি, বিজিবি ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই শেষ পর্যন্ত বিএসএফকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। সীমান্তের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে—জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধ যেকোনো আগ্রাসী তৎপরতা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক-প্রান্তিক 
















