Dhaka ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে গণধোলাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০
  • ১৯৩ Time View

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের পল্লীতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে গনধোলাই দিয়েছে জনতা। জানা যায়, স্ত্রী সন্তান থাকতে পরকীয়ায় জড়িয়ে ওই সহকারী শিক্ষক এক প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপরত অবস্থায় জনতা ঘরে তালা দিয়ে তাকে আটকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গণধোলাইয়ের পর মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ১টার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগদাড়িয়ালা গ্রামে প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায়ের বাড়িতে এঘটনা ঘটে।

গোয়ালপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায় সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার মা এবং স্ত্রী লতা রাণী রায়কে নিয়ে দুই তলা ভবনে বসবাস করেন। আমার সহকর্মী মৌখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের পুত্র ড্যামরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক এস,এম, গোলাম রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া চালিয়ে আসছিল। আমি সকালে স্কুলে চলে যাওয়ার পর লম্পট শিক্ষক গোলাম রহমান স্কুলে না গিয়ে আবার কখনও কখনও স্কুলে হাজিরা দিয়ে কালিগঞ্জে শিক্ষা অফিসের নাম করে আমার বাসায় এসে বৃদ্ধা মায়ের রুমে তালা দিয়ে নিজেরা দিনের পর দিন অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

তিনি আরও জানান, আমি গত ৩ মাস আগে ছুটি নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেয়ে করোনাভাইরাসের লকডাউনে ভারতে ২ মাস আটকা পড়ে থাকি। গত এক মাস আগে আমি বাড়িতে ফিরি। গত রবিবার আমি অসুস্থ্য বোধ করায় বাড়ির ২য় তলায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। নিচতলায় একা থাকার সুযোগে স্ত্রী লতা রানী মোবাইলে তার পরকীয়ার প্রেমিক আমার সহকর্মী শিক্ষক গোলাম রহমানকে ডেকে নেয়।

লম্পট শিক্ষক গোলাম রহমান নিজের মটরসাইকেল চড়ে না এসে কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে তার নতুন বাড়িতে বউ বাচ্চা রেখে সাইকেল যোগে ৬ কিঃ মিঃ দুরে আমার বাড়িতে স্ত্রীর ঘরে চলে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী বাড়ি ঘেরাও করে আমার নিকট মোবাইল করে। বাড়িতে লোক ঢুকেছে এমন খবর পেয়ে আমি ২য় তলা হতে নিচে নেমে গেটের তালা খোলা দেখে তাৎক্ষনিক তাদের ঘরে দরজা খুলতে বললে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সাথে থাকা স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘরে তালা আটকিয়ে ব্যাপক উত্তম মাধ্যম শুরু করে।

এরপর খবর পেয়ে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সজল মুখার্জী রাত আনুমানিক ৩টার সময় ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এক পর্যায়ে ঘটনা শোনাবুঝার পর মুচেলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়। এই ভাবে অকপটে কথা গুলো বলছিলেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায়। তিনি আরও বলেন, আমি একজন শিক্ষক আর আমার সহকর্মী বন্ধু এমন কাজ করতে পারে সেটা ভাবতে অবাক লাগছে।

এ প্রসঙ্গে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সজল মুখার্জী সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে মিথ্যা বলে রাত তিনটার সময় জগোবন্ধু মাষ্টার লোক পাঠিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। যেয়ে দেখি গণপিটুনি দিয়ে শিক্ষক গোলামকে বেঁধে রেখেছে। প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধুর মানসম্মানের কথা চিন্তা করে মুচেলিকা নিয়ে গোলাম রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

কালিগঞ্জে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে গণধোলাই

Update Time : ০৫:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের পল্লীতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে গনধোলাই দিয়েছে জনতা। জানা যায়, স্ত্রী সন্তান থাকতে পরকীয়ায় জড়িয়ে ওই সহকারী শিক্ষক এক প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপরত অবস্থায় জনতা ঘরে তালা দিয়ে তাকে আটকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গণধোলাইয়ের পর মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ১টার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগদাড়িয়ালা গ্রামে প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায়ের বাড়িতে এঘটনা ঘটে।

গোয়ালপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায় সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার মা এবং স্ত্রী লতা রাণী রায়কে নিয়ে দুই তলা ভবনে বসবাস করেন। আমার সহকর্মী মৌখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস সামাদ সরদারের পুত্র ড্যামরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক এস,এম, গোলাম রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া চালিয়ে আসছিল। আমি সকালে স্কুলে চলে যাওয়ার পর লম্পট শিক্ষক গোলাম রহমান স্কুলে না গিয়ে আবার কখনও কখনও স্কুলে হাজিরা দিয়ে কালিগঞ্জে শিক্ষা অফিসের নাম করে আমার বাসায় এসে বৃদ্ধা মায়ের রুমে তালা দিয়ে নিজেরা দিনের পর দিন অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

তিনি আরও জানান, আমি গত ৩ মাস আগে ছুটি নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেয়ে করোনাভাইরাসের লকডাউনে ভারতে ২ মাস আটকা পড়ে থাকি। গত এক মাস আগে আমি বাড়িতে ফিরি। গত রবিবার আমি অসুস্থ্য বোধ করায় বাড়ির ২য় তলায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। নিচতলায় একা থাকার সুযোগে স্ত্রী লতা রানী মোবাইলে তার পরকীয়ার প্রেমিক আমার সহকর্মী শিক্ষক গোলাম রহমানকে ডেকে নেয়।

লম্পট শিক্ষক গোলাম রহমান নিজের মটরসাইকেল চড়ে না এসে কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে তার নতুন বাড়িতে বউ বাচ্চা রেখে সাইকেল যোগে ৬ কিঃ মিঃ দুরে আমার বাড়িতে স্ত্রীর ঘরে চলে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী বাড়ি ঘেরাও করে আমার নিকট মোবাইল করে। বাড়িতে লোক ঢুকেছে এমন খবর পেয়ে আমি ২য় তলা হতে নিচে নেমে গেটের তালা খোলা দেখে তাৎক্ষনিক তাদের ঘরে দরজা খুলতে বললে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সাথে থাকা স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘরে তালা আটকিয়ে ব্যাপক উত্তম মাধ্যম শুরু করে।

এরপর খবর পেয়ে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সজল মুখার্জী রাত আনুমানিক ৩টার সময় ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এক পর্যায়ে ঘটনা শোনাবুঝার পর মুচেলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়। এই ভাবে অকপটে কথা গুলো বলছিলেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধু রায়। তিনি আরও বলেন, আমি একজন শিক্ষক আর আমার সহকর্মী বন্ধু এমন কাজ করতে পারে সেটা ভাবতে অবাক লাগছে।

এ প্রসঙ্গে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সজল মুখার্জী সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে মিথ্যা বলে রাত তিনটার সময় জগোবন্ধু মাষ্টার লোক পাঠিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। যেয়ে দেখি গণপিটুনি দিয়ে শিক্ষক গোলামকে বেঁধে রেখেছে। প্রধান শিক্ষক জগোবন্ধুর মানসম্মানের কথা চিন্তা করে মুচেলিকা নিয়ে গোলাম রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।