Dhaka ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মাদক ছাড়ুন, নইলে এলাকা ছাড়ুন’— মাদকমুক্ত মনিপুর-তালতলী গড়তে চলমান সামাজিক অভিযান

মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক: গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর-তালতলী এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক মাদকবিরোধী সামাজিক অভিযান। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং এলাকায় মাদকের বিস্তার সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মনিপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন।

এ সময় অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তারা বলেন, “মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, অন্যথায় এলাকা ছেড়ে যান। মাদক কারবারের কোনো স্থান আমাদের সমাজে নেই।”

অভিযানের একপর্যায়ে নেতৃবৃন্দ মনিপুর এলাকার এক অভিযোগভুক্ত মাদক কারবারির বাড়িতে যান। তবে তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিভাবকদের সতর্ক করে জানান, পরিবারের সদস্যদের যেন কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি আরও নিবিড় নজরদারি রাখার আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর আগেও মাদক-সংক্রান্ত মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সে লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ সামাজিক আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, “মাদকমুক্ত মনিপুর-তালতলী গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। শুধু মনিপুর নয়, মির্জাপুর ইউনিয়নসহ গাজীপুর সদর উপজেলার কোথাও যেন মাদকের কারবার না থাকে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। যতদিন না এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান চলমান থাকবে।”

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর সদর ওলামা দলের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম কাজী, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন মুসল্লী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর সদরের সভাপতি মো. সফর আলী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মো. আজিজ মিয়া রুবেল।

কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি সমাজ, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আন্দোলন। তাই মাদক নির্মূলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”

উল্লেখ্য, আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী এই সামাজিক অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

‘মাদক ছাড়ুন, নইলে এলাকা ছাড়ুন’— মাদকমুক্ত মনিপুর-তালতলী গড়তে চলমান সামাজিক অভিযান

Update Time : ০১:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ রওশন আলী, বিশেষ প্রতিনিধি-দৈনিক প্রান্তিক: গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর-তালতলী এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক মাদকবিরোধী সামাজিক অভিযান। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং এলাকায় মাদকের বিস্তার সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মনিপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন।

এ সময় অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তারা বলেন, “মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, অন্যথায় এলাকা ছেড়ে যান। মাদক কারবারের কোনো স্থান আমাদের সমাজে নেই।”

অভিযানের একপর্যায়ে নেতৃবৃন্দ মনিপুর এলাকার এক অভিযোগভুক্ত মাদক কারবারির বাড়িতে যান। তবে তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিভাবকদের সতর্ক করে জানান, পরিবারের সদস্যদের যেন কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি আরও নিবিড় নজরদারি রাখার আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর আগেও মাদক-সংক্রান্ত মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সে লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ সামাজিক আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, “মাদকমুক্ত মনিপুর-তালতলী গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। শুধু মনিপুর নয়, মির্জাপুর ইউনিয়নসহ গাজীপুর সদর উপজেলার কোথাও যেন মাদকের কারবার না থাকে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। যতদিন না এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান চলমান থাকবে।”

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর সদর ওলামা দলের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম কাজী, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন মুসল্লী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর সদরের সভাপতি মো. সফর আলী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মো. আজিজ মিয়া রুবেল।

কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি সমাজ, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আন্দোলন। তাই মাদক নির্মূলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”

উল্লেখ্য, আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী এই সামাজিক অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।