Dhaka ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং সেই পুনর্গঠনের মূল শক্তি হবে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা।

রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে হলে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে জাতিকে প্রস্তুত না রাখতে পারলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে পুরনো অনেক কর্মক্ষেত্র বিলুপ্ত হচ্ছে, আবার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ছাড়া ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে। এ কারণে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা শেষে বিপুল সংখ্যক তরুণ বেকার থেকে যাচ্ছে। ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়েও কাজ চলছে।

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালুর সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পরিবেশ সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মানবিক মানুষ গড়তে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।” জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০৩:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং সেই পুনর্গঠনের মূল শক্তি হবে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা।

রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে হলে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে জাতিকে প্রস্তুত না রাখতে পারলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে পুরনো অনেক কর্মক্ষেত্র বিলুপ্ত হচ্ছে, আবার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ছাড়া ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে। এ কারণে সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে বাস্তবভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা শেষে বিপুল সংখ্যক তরুণ বেকার থেকে যাচ্ছে। ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়েও কাজ চলছে।

তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট চালুর সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে উঠবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও পরিবেশ সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মানবিক মানুষ গড়তে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।” জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।